প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, দেরাদুনের ‘মেট্রো শুজ’ শোরুমে আচমকাই দলবল নিয়ে চড়াও হয় ওই হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীটি। তারা শোরুমের ভেতরে কর্মরত দুজন মুসলিম কর্মচারীকে ঘিরে ধরে জেরা করতে শুরু করে। হামলা কারীদের দাবি, ওই কর্মচারীরা তাদের নেমব্যাজে (নামের ব্যাজ) নিজেদের নাম প্রদর্শন করছিলেন না। একে “হিন্দু ক্রেতাদের বিভ্রান্ত করার কৌশল” এবং “ধর্মীয় পরিচয় লুকিয়ে প্রতারণা” বলে অভিযোগ তোলে তারা।
শুধু পরিচয় লুকানোর অভিযোগই নয়, হামলাকারীরা কোনো প্রমাণ ছাড়াই ওই মুসলিম কর্মচারীদের বিরুদ্ধে জুতো চুরি করা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ক্রেতাদের ঠকানোর মনগড়া অভিযোগ আনে।
সামাজিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হিন্দুত্ববাদী দলগুলোর ছড়ানো কাল্পনিক “লাভ জিহাদ” বা “অর্থনৈতিক জিহাদ”-এর মতো বিদ্বেষী তত্ত্বের আড়ালে জনসমক্ষে এবং কর্মক্ষেত্রে মুসলিমদের টার্গেট করার যে ক্রমবর্ধমান প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, এই ঘটনাটি তারই আরেকটি বিপজ্জনক উদাহরণ। নাম না প্রকাশ করার শর্তে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, কর্মক্ষেত্রেও যদি এভাবে ধর্মীয় পরিচয় তুলে হেনস্থা করা হয়, তবে তা সাধারণ মানুষের রুটি-রুজির ওপর বড় আঘাত।
এদিকে, ঘটনার পর বেশ কিছু সময় পার হয়ে গেলেও এই বিষয়ে দেরাদুন পুলিশের কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। পুলিশের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া মেলেনি। এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো আনুষ্ঠানিক এফআইআর দায়ের বা কাউকে আটক করার খবর নিশ্চিত করা যায়নি।