রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট)-এর রোভার গবেষণা ও উদ্ভাবনী সংগঠন “টিম অগ্রদূত” আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন সাফল্য অর্জন করেছে। বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ রোভার প্রতিযোগিতা “আনাতলিয়া রোবার চ্যালেঞ্জ ২০২৬”-এ অংশ নিয়ে দলটি বিশ্বব্যাপী ১৩তম স্থান অর্জন করেছে। পাশাপাশি ডিজাইন বিভাগে ৫০-এর মধ্যে ৪৮.৫৯ নম্বর পেয়ে প্রতিযোগিতার সেরা স্কোরগুলোর একটি অর্জন করেছে তারা।
জানা গেছে, আগামী ২৯ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত তুরস্কের আঙ্কারায় অবস্থিত মিডল ইস্ট টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে প্রতিযোগিতার মূল আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে।
২০১৭ সালে যাত্রা শুরু করা “টিম অগ্রদূত” প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন রোভার এবং স্পেস রোবোটিক্স প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিকভাবে সাফল্য দেখিয়ে আসছে। ২০১৮ সালে “ইন্ডিয়ান রোবার চ্যালেঞ্জ”-এ অংশ নিয়ে দলটি এশিয়ার সেরা দলগুলোর মধ্যে ৬ষ্ঠ স্থান অর্জন করে। পরে ২০১৯ সালে পোল্যান্ডে অনুষ্ঠিত “ইউরোপিয়ান রোবার চ্যালেঞ্জ”-এ বিশ্বে ২৭তম স্থান লাভ করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের সক্ষমতার পরিচয় দেয়।
এর ধারাবাহিকতায় “ইন্টারন্যাশনাল রোবার ডিজাইন চ্যালেঞ্জ ২০২৩ (আইআরডিসি)”এ দলটি বিশ্বে ১১তম এবং বাংলাদেশের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করে আলোচনায় আসে। এছাড়া আইআরডিসি ২০২৩-এ সেমিফাইনালিস্ট এবং আইরসি ২০২৫-এ ফাইনালিস্ট হয়ে দেশের অন্যতম সফল রোভার টিম হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে তারা।
শুধু প্রতিযোগিতায় সাফল্য নয়, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনেও দলটির উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জন্য একটি বোম ডিসপোসাল রোবট তৈরি করে “টিম অগ্রদূত”, যা তাদের বাস্তবভিত্তিক গবেষণা ও প্রকৌশল দক্ষতার উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দলটির প্রধান লক্ষ্য উন্নতমানের অটোনোমাস রোবট প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা এবং তরুণ প্রকৌশলীদের হাতে-কলমে উদ্ভাবনী কাজের সুযোগ তৈরি করা। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রযুক্তি ও গবেষণায় উৎসাহিত করাও তাদের অন্যতম উদ্দেশ্য।
বর্তমানে দলটি আনাতলিয়া রোবার চ্যালেঞ্জ ২০২৬-এর চূড়ান্ত প্রস্ততিতে ব্যস্ত। ভবিষ্যতে আরও বড় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের। অত্যাধুনিক রোভার ডিজাইন, অটোনোমাস নেভিগেশন, বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ এবং রিয়েল-টাইম অপারেশন নিয়ে তাদের চলমান গবেষণা ইতোমধ্যেই প্রযুক্তিপ্রেমী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।
বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে বিশ্বদরবারে আরও শক্তভাবে তুলে ধরতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে “টিম অগ্রদূত”।