মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পের জনবলকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছেন প্রকল্পের নেতারা। তিনটি দাবির মধ্যে তাদের প্রধান দাবি- সরকারি গ্রেড অনুযায়ী বেতন—ভাতা প্রদান করা হোক।
দেশের ৬৪ জেলায় জেলা প্রশাসক ও সকল উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে সোমবার (১৮ মে) প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে মউশিক শিক্ষক কল্যাণ পরিষদ, বাংলাদেশ। ঢাকায় জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদান শেষে রাজধানীর তোপখানায় সংবাদ সম্মেলন করেন সংগঠনটির বিভিন্ন স্তরের নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মউশিক শিক্ষক কল্যাণ পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুফতি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রকল্পটি ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক পরিচালিত একটি বৃহৎ ও যুগান্তকারী শিক্ষা ও আর্থ—সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগে ১৯৯৩ সালে এই প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়।
‘দীর্ঘ সময়ে প্রকল্পের আওতায় ১ম থেকে ৬ষ্ঠ পর্যায় প্রায় ২ কোটি ১৫ লাখ ৯ হাজার ৯৫০ জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষা প্রদান করা হয়েছে। ৭ম পর্যায়ে প্রায় ১ কোটি ২১ লাখ ৫১ হাজার শিক্ষার্থীকে শিক্ষা প্রদান করা হয়েছে, যা একটি বিরল সাফল্য। বর্তমানে এই প্রকল্পে প্রায় ৭১ হাজার ৯৪৯ জন শিক্ষক—শিক্ষিকা ও কর্মচারী নিয়োজিত আছেন।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের তিনটি দাবি হলো— (১) নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ উন্নয়নে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পটি দ্রুত রাজস্ব খাতে স্থানান্তর করা হোক। (২) সকল শিক্ষক—শিক্ষিকা, কেয়ারটেকার ও সংশ্লিষ্ট জনবলকে সরকারি গ্রেডে বেতন—ভাতা প্রদান করা হোক। (৩) তাদের চাকরির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আমিনুল ইসলাম চৌধুরী, ঢাকা বিভাগীয় সভাপতি মাওলানা সেলিম জাফর খান, ঢাকা মহানগর সভাপতি মাওলানা আবু বক্কর সিদ্দিক, সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা রফিকুল ইসলাম কিশোরগঞ্জী, ঢাকা জেলা সভাপতি মাওলানা মোর্শেদ আলম, সাধারণ সম্পাদক এইচ এম বেলায়েত হোসেন খান।
উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা ডা. ইব্রাহিম খলিল, কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক অধ্যক্ষ মো. এনায়েত হোসেন, আইসিটি সম্পাদক মাওলানা নুরুল ইসলাম বাশারসহ অনেকে।