ভারতের তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক নাটক তুঙ্গে উঠেছে। অভিনেতা থেকে রাজনীতিক বনে যাওয়া থালাপতি বিজয়ের দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে) বৃহস্পতিবার (৭ মে) সন্ধ্যায় সতর্ক করে বলেছে, যদি দুই দ্রাবিড় দল— এমকে স্টালিনের দ্রাবিড়া মুনেত্রা কাজাগাম (ডিএমকে) এবং এদাপ্পাদি কে পালানিস্বোয়ামীর অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড়া মুনেত্রা কাজাগাম (এআইএডিএমকে) সরকার গঠনের দাবি তোলার চেষ্টা করে, তাহলে দলের প্রতিটি বিধায়ক (এমএলএ) পদত্যাগ করবেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে এমনটাই জানিয়েছে।
ডিএমকে ও এআইএডিএমকের শিবিরে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পরই এই টিভিকে সিদ্ধান্ত এল। টিভিকের সন্দেহ, সরকার গঠনের জন্য দুই দল নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করছে এবং সবচেয়ে বেশি জনসমর্থন পাওয়া দলটিকে বাইরে রেখে ক্ষমতার সমীকরণ সাজাতে চাইছে।
১০৭টি আসনে জয় পাওয়া টিভিকের যুক্তি, একক বৃহত্তম দল হিসেবে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ তাদেরই পাওয়া উচিত। তবে বৃহস্পতিবার সকালে রাজ্যের গভর্নর আর ভি আরলেকার থালাপতি বিজয়কে সরকার গঠনের দাবি জানানোর অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানান। তার বক্তব্য, টিভিকের কাছে প্রয়োজনীয় সংখ্যা নেই। বিজয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের যে রূপরেখা পেশ করেছিলেন, সেটিও তিনি গ্রহণ করেননি। সূত্র জানায়, দুই দিনের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো হওয়া বৈঠকটি শেষ হয় গভর্নরের এই অবস্থানে অনড় থাকার মধ্য দিয়ে বিজয়কে ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থনপত্র দেখাতে হবে।
রাজভবনের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘গভর্নর ব্যাখ্যা করেছেন যে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন, যা তামিলনাড়ু বিধানসভায় অপরিহার্য, তা এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।’ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে টিভিকের আরও ১০টি আসন প্রয়োজন। ইতিমধ্যে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস, যাদের পাঁচজন বিধায়ক রয়েছে। বাকি আসনের জন্য বাম দল ও কয়েকটি ছোট দলের সঙ্গে আলোচনা চলছে। সূত্র জানিয়েছে, দলটি আদালতের দ্বারস্থ হওয়ারও প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এদিকে এসব রাজনৈতিক নাটকীয়তার মধ্যে মধ্যে বিজয়ের দলের ১০৭ জন নতুন বিধায়ককে রাজধানী চেন্নাই থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরের মন্দিরনগরী মামাল্লাপুরামের একটি অবকাশযাপনকেন্দ্রে রাখা হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো তারা যেন অন্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ না করতে পারেন।
তবে দলটির সামনে সবচেয়ে খারাপ যে পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে, তা হলো যদি তারা ১১৮ বিধায়কের সমর্থন দেখাতে না পারে, তাহলে রাজ্যপাল নতুন বিধানসভা স্থগিত করে কেন্দ্রের কাছে রাষ্ট্রপতি শাসনের সুপারিশ করতে পারেন।