পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে পূর্ণাঙ্গ স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এপিসিএস) সরবরাহ ও স্থাপন সম্পন্ন করেছে রোসাটম। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। গত ২৮ এপ্রিল থেকে ইউনিটটি স্টার্ট-আপ পর্যায়ে রয়েছে।
শুক্রবার (৮ মে) রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা রোসাটম এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছে। রোসাটম রূপপুর প্রকল্পের মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রোসাটমের অটোমেশন ও ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ‘রোসাটম অটোমেটেড কন্ট্রোল সিস্টেমস’ এই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাটি সরবরাহ করেছে।
প্রতিষ্ঠানটি প্রথম ইউনিটের জন্য স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ ও বিকিরণ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাসহ ২২টি সাব-সিস্টেম স্থাপন করেছে। এই স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম বিদ্যুৎ ইউনিটের কমিশনিং ও পরিচালনাকালে যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়াগুলো পর্যবেক্ষণ করবে।
রোসাটম অটোমেটেড কন্ট্রোল সিস্টেমসের অটোমেটেড প্রসেস কন্ট্রোল সিস্টেম বিভাগের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গ্লেব মুরাশভ বলেন, ‘বর্তমানে রূপপুর এনপিপির প্রথম ইউনিটের জন্য সব স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জাম নির্মাণস্থলে সরবরাহ ও কমিশনিং সম্পন্ন হয়েছে। রূপপুর প্রকল্পের বিশেষত্ব বিবেচনায় নিয়ে আমরা এই সিস্টেমের বেশ কিছু উন্নয়ন করেছি।
উদাহরণস্বরূপ, প্রথমবারের মতো কমপ্যাক্ট বেঞ্চ-টাইপ নকশা ব্যবহার করা হয়েছে, যা স্বয়ংক্রিয় বিকিরণ পর্যবেক্ষণ সিস্টেম অন্তর্ভুক্ত করেছে।
রাশিয়ার প্রযুক্তি ও আর্থিক সহায়তায় নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে মোট দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর স্থাপন করা হয়েছে, যার সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।
উল্লেখ্য, ৩+ প্রজন্মের রিঅ্যাক্টর নকশাটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ করে তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে এ ধরনের রিঅ্যাক্টরসংবলিত ছয়টি ইউনিট রাশিয়া ও বেলারুশে চালু রয়েছে। একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বর্তমানে মিশর, হাঙ্গেরি, তুরস্ক ও চীনে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে।