সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে সবজির দামে রীতিমতো ‘আগুন’ লেগেছে। কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়া এবং বেশ কিছু সবজির মৌসুম শেষ হওয়া—এই তিন অজুহাতে আকাশচুম্বী দামে বিক্রি হচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব সবজি। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের পক্ষে এখন সবজির গায়ে হাত দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।
আজ শুক্রবার (০৮ মে) রাজধানীর মিরপুর, কারওয়ান বাজার, শান্তিনগর ও মোহাম্মদপুরসহ বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, হাতেগোনা দুই-একটি সবজি ছাড়া প্রায় সবকিছুর দামই এখন সেঞ্চুরির ঘরে।
খুচরা বাজারে আজ সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে কাঁকরোল, বেগুন ও শসা। প্রতি কেজি কাঁকরোল ও গোল বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। লম্বা বেগুন ও শসার দামও ১০০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে।
সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস তুলে আজ বাজারে পটল, করলা ও পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৮০-৯০ টাকা কেজি দরে। অথচ কিছুদিন আগেও পেঁপে ছিল সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে।
এছাড়া ঝিঙা, চিচিঙ্গা ও ধুন্দল—সবই বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজি। কাঁচা মরিচের ঝাল তো আরও চড়া; প্রতি কেজি ১৭০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
কারওয়ান বাজারে সবজি কিনতে আসা সাধারণ ক্রেতারা জানান, আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের কোনো সামঞ্জস্য নেই। যেখানে প্রতিটি সবজির দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকার ওপরে, সেখানে মধ্যবিত্তদের জন্য স্বাভাবিক বাজার করাও এখন অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাজারে আসা এক ক্রেতা আক্ষেপ করে বলেন, বাজারে এখন ৮০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই। কয়েকদিন আগে যে পেঁপে ছিল সস্তা, তাও আজ ৮০ টাকা। সবজির দাম যদি এভাবে বাড়ে, তবে আমরা খাব কী?
সবজির দাম নিয়ে বিক্রেতারা বলেন, বৃষ্টির কারণে খেতের সবজি নষ্ট হওয়ায় সরবরাহ কমে গেছে। পাশাপাশি জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় ট্রাক ভাড়া অনেক বেড়ে গেছে। ফলে পাইকারি বাজারেই তাদের চড়া দামে সবজি কিনতে হচ্ছে। অনেক সবজির সিজন শেষ হওয়ায় বাজারে মালামাল কম আসছে, যার প্রভাব সরাসরি পড়ছে খুচরা মূল্যে।
এদিকে ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, বাজারে নতুন মৌসুমের সবজি পুরোদমে আসতে শুরু করলে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দাম কিছুটা কমে আসবে।