শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ০১:৫১ পূর্বাহ্ন

গির্জায় ঢুকে ফাদারকে বেঁধে টাকা লুট, গ্রেপ্তার ৩

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২ মে, ২০২৬

রাজধানীর বারিধারায় ‘ডি মাজেন্ড’ গির্জায় ঢুকে পরিচালককে বেঁধে প্রায় আড়াই লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ভাটারা থানা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল থেকে শুক্রবার (১ মে) সকাল পর্যন্ত ঢাকা ও লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চরাঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— আবুল হোসেন রতন ওরফে হাবু (৩৬), মোহাম্মদ নিজাম ওরফে মিজান (৩৭) এবং আক্তার হোসেন মনা ওরফে মনির (৩৮)। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা, একটি পাসপোর্ট ও একটি জাতীয় পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়।

ডিএমপি জানায়, গত ২৮ এপ্রিল রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে দুই দুর্বৃত্ত বারিধারার ‘ডি মাজেন্ড’ গির্জায় প্রবেশ করে। তারা প্রথমে গির্জার স্টাফদের কক্ষের বাইরে থেকে বন্ধ করে দেয়। পরে গির্জার পরিচালক ফাদার সুবাস পুলক গমেজের অফিস কক্ষের গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে তাকে বেঁধে ফেলে। এরপর আলমারি ভেঙে নগদ প্রায় আড়াই লাখ টাকা, একটি পাসপোর্ট, একটি জাতীয় পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র লুট করে। পরে আরেক সহযোগীর সহায়তায় দেয়াল টপকে ব্যাটারিচালিত রিকশায় পালিয়ে যায় তারা। এ ঘটনায় ভাটারা থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।

মামলার পর তদন্তে নামে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রিকশার সূত্র ধরে কয়েক হাজার রিকশা ও চালকের তথ্য বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করে। ৩০ এপ্রিল সকালে রাজধানীর মুগদা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আক্তার হোসেন মনাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ব্যবহৃত ব্যাটারিচালিত রিকশা এবং লুট করা এক লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

এরপর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন বিকেলে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলায় অভিযান চালিয়ে মোহাম্মদ নিজামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে লুট করা ৪৮ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

এরপর শুক্রবার ভোরে রাজধানীর খিলক্ষেতের আমতলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মূল পরিকল্পনাকারী আবুল হোসেন রতনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে একটি পাসপোর্ট, একটি জাতীয় পরিচয়পত্র এবং লুট করা এক লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

ডিএমপি আরও জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা মাদক ও অনলাইন জুয়ায় আসক্ত। এসব খরচ মেটাতে তারা রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও দস্যুতাসহ নানা অপরাধে জড়িত।

অভিযুক্ত রতনের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় আটটি মামলা রয়েছে এবং নিজামের বিরুদ্ধে কুমিল্লার লালমাই থানায় একটি দস্যুতার মামলা এবং মনিরের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের হালিশহর থানায় একটি মাদক মামলা রয়েছে। প্রত্যেককে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102