বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৩৩ অপরাহ্ন

চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথানাশক সেবনে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬

মাথাব্যথা, শরীর কামড়ানো কিংবা সামান্য ব্যথ অনুভব করলেই আমরা ফার্মেসি থেকে নিজের ইচ্ছামতো ব্যথানাশক বা পেইনকিলার কিনে সেবন করি। বিশেষ করে এনএসএআইডি জাতীয় ওষুধ যেমন- আইবুপ্রোফেন, ডিক্লোফেনাক কিংবা নেপ্রোক্সেন এখন মুড়িমুড়কির মতো ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে চিকিৎসকরা সতর্ক করছেন যে, দীর্ঘ মেয়াদে বা নিয়ম না মেনে এসব ওষুধ সেবন করলে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো স্থায়ীভাবে অকেজো হয়ে যেতে পারে।

ব্যথানাশক ওষুধের ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি
১. কিডনি বিকল হওয়া (Kidney Failure):

অতিরিক্ত ব্যথানাশক ওষুধ সেবনের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো কিডনির কার্যক্ষমতা হারানো। এসব ওষুধ কিডনিতে রক্ত প্রবাহ কমিয়ে দেয়, যা দীর্ঘ মেয়াদে ‘ক্রনিক কিডনি ডিজিজ’ বা স্থায়ী কিডনি বৈকল্যের কারণ হতে পারে।

২. পাকস্থলীতে ক্ষত বা আলসার:
খালি পেটে বা দীর্ঘদিন ব্যথানাশক খেলে পাকস্থলীর দেওয়ালে প্রদাহ তৈরি হয়। এর ফলে গ্যাস্ট্রিক আলসার, এমনকি পাকস্থলীতে ছিদ্র হয়ে রক্তক্ষরণ (Internal Bleeding) হওয়ার মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

৩. হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি:
গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু শক্তিশালী ব্যথানাশক ওষুধ নিয়মিত সেবন করলে উচ্চ রক্তচাপ বৃদ্ধি পায় এবং স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।

৪. লিভারের ক্ষতি:
প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ তুলনামূলক নিরাপদ মনে করা হলেও এর অতিরিক্ত ডোজ লিভারের মারাত্মক ক্ষতি বা ‘লিভার ফেইলিওর’ ঘটাতে পারে।

সতর্ক সংকেত: কখন সাবধান হবেন?
যদি ব্যথানাশক সেবনের পর নিচের লক্ষণগুলো দেখা দেয়, তবে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে:

প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া বা রং পরিবর্তন হওয়া।

পা বা মুখ ফুলে যাওয়া।

পেটে তীব্র ব্যথা বা কালচে রঙের মল ত্যাগ করা।

ত্বকে চুলকানি বা র‍্যাশ হওয়া।

প্রতিকার ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
শরীরের ব্যথা নিরাময়ে ওষুধের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে চিকিৎসকরা কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন:

বিকল্প পদ্ধতি: সামান্য ব্যথায় ওষুধ না খেয়ে গরম বা ঠান্ডা সেঁক, বিশ্রাম কিংবা সঠিক ব্যায়ামের মাধ্যমে ব্যথা কমানোর চেষ্টা করুন।

ভরা পেটে সেবন: একান্তই ওষুধের প্রয়োজন হলে কখনোই খালি পেটে ব্যথানাশক খাবেন না। সাথে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ সেবন করুন।

ডোজ নিশ্চিত করা: কোনো ওষুধ কতদিন এবং দিনে কয়বার খেতে হবে, তা অবশ্যই রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নিন।

রুটিন চেকআপ: যারা বাতের ব্যথা বা দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার জন্য নিয়মিত ওষুধ খান, তাদের নির্দিষ্ট সময় পর পর কিডনি ও লিভার ফাংশন টেস্ট করা জরুরি।

ব্যথা শরীরের একটি সংকেত মাত্র, এটি কোনো রোগ নয়। ওষুধের মাধ্যমে সংকেতটি চেপে না রেখে ব্যথার আসল কারণ খুঁজে বের করা জরুরি। সামান্য ব্যথায় পেইনকিলার খাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করে প্রাকৃতিক উপায়ে সুস্থ থাকার চেষ্টা করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102