কোলন ক্যানসার কী?
আমাদের পেটের নিচের অংশে থাকা বৃহদান্ত্র বা কোলনের কোষগুলো যখন অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকে, তখন সেখানে টিউমার বা ক্যানসার সৃষ্টি হয়। শুরুতে এটি ছোট পোলিপ বা মাংসপিণ্ড হিসেবে থাকলেও পরে তা ক্যানসারে রূপ নিতে পারে।
কোলন ক্যানসার কেন হয়? (ঝুঁকির কারণসমূহ)
চিকিৎসকদের মতে, কোলন ক্যানসারের সুনির্দিষ্ট কোনো একক কারণ না থাকলেও বেশ কিছু বিষয় এর ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়:
অতিরিক্ত রেড মিট গ্রহণ: গরু বা খাসির মাংস এবং প্রক্রিয়াজাত মাংস (যেমন- সসেজ, বার্গার) বেশি খেলে এই ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে।
আঁশযুক্ত খাবারের অভাব: খাদ্যতালিকায় শাকসবজি ও ফলমূলের পরিমাণ কম থাকা।
স্থূলতা ও অলস জীবন: শারীরিক পরিশ্রম না করা এবং ওজন অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়া।
ধূমপান ও মদ্যপান: যেকোনো ধরনের তামাকজাত দ্রব্য গ্রহণ কোলনের ক্ষতি করে।
বংশগত কারণ: পরিবারের কারও এই ক্যানসার থাকলে পরবর্তী প্রজন্মের ঝুঁকি থেকে যায়।
উপসর্গ বা লক্ষণসমূহ
অনেক সময় শুরুতে কোনো লক্ষণ বোঝা যায় না। তবে নিচের উপসর্গগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত:
১. দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য বা বারবার ডায়রিয়া হওয়া।
২. মলের সঙ্গে রক্ত যাওয়া (লাল বা কালচে রঙের)।
৩. পেটে ব্যথা, গ্যাস বা মোচড় দেওয়া।
৪. মলত্যাগের পরও পেট পরিষ্কার হয়নি-এমন অনুভূতি হওয়া।
৫. হঠাৎ করে ওজন কমে যাওয়া এবং সবসময় দুর্বলতা অনুভব করা।
কোলন ক্যানসার থেকে বাঁচার উপায় (প্রতিকার)
সচেতনতা এবং সুশৃঙ্খল জীবনযাপনই পারে এই রোগ থেকে দূরে রাখতে:
খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন: প্রতিদিনের তালিকায় প্রচুর পরিমাণে আঁশযুক্ত খাবার যেমন- লাল চাল, লাল আটা, শাকসবজি ও দেশি ফল রাখুন। চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।
পর্যাপ্ত পানি পান: শরীর থেকে টক্সিন বের করে দিতে প্রতিদিন অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন।
শারীরিক ব্যায়াম: প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটাহাঁটি বা শরীরচর্চা করার অভ্যাস করুন।
স্ক্রিনিং বা পরীক্ষা: ৫০ বছর বয়সের পর নিয়মিত কোলনোস্কপি করানো উচিত। তবে পারিবারিক ইতিহাস থাকলে ৪০ বছরের পর থেকেই পরীক্ষা শুরু করা ভালো।
ক্ষতিকর অভ্যাস বর্জন: ধূমপান এবং জর্দা-গুলের মতো তামাকজাত দ্রব্য পুরোপুরি ত্যাগ করুন।
কোলন ক্যানসার মানেই মৃত্যু নয়। প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে অস্ত্রোপচার বা আধুনিক থেরাপির মাধ্যমে এটি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য। তাই পেটের যেকোনো সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারা বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।







