সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ০৩:৩২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
চুলকাটি প্রেসক্লাবে শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালিত রামপাল বাসস্ট্যান্ডে অতর্কিত হামলা, হাসপাতালে নেওয়ার পথে ইখলাস গাজীর মৃত্যু দেশ জুড়ে ঈদের আনন্দ, স্টেশন জুড়ে পথশিশুদের কান্না শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকীতে রামপালে গভীর নলকূপ উদ্বোধন করলেন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকীতে রামপালে ২৯ মসজিদে খতমে কোরআন ডিজিটাল আসক্তি ও মনোযোগহীনতা গাজীপুরে ট্রান্সমিটারের তার ছিঁড়ে কিশোর নিহত চট্টগ্রামে তেলবাহী জাহাজে আগুন, ২২ ক্রু উদ্ধার ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে সেনানিবাসে প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন মোদি

স্বাস্থ্য সেবায় হোমিওপ্যাথির গবেষণা ও সম্প্রসারণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬

ডা. স্যামুয়েল হ্যানিম্যান ১৭৯০ সালে ডা. উইলিয়াম কালেন এর ‘এ ট্রিয়েটিস অন ম্যাটিরিয়া মেডিকাকে’ ইংরেজি ভাষা থেকে জার্মান ভাষায় অনুবাদ করেন। বিখ্যাত গ্রন্থ ‘A Treatise of the Materia Medica’- তে কম্প জ্বরের ওষুধ হিসেবে পেরুভিয়ান বার্ক বা China সম্পর্কে কালেনের ব্যাখ্যা ছিল ‘চায়না বার্ক’ জ্বর নিরাময় করে কারণ এটি পেটে ও হজমশক্তিতে টনিকের মতো কাজ করে। এটি পাকস্থলী/পরিপাকতন্ত্রের ক্ষমতা বাড়িয়ে শরীরকে শক্তিশালী করে, তাই সবিরাম জ্বর চলে যায়। তিনি এটিকে ‘উদ্দীপক’ ও ‘এসট্রিনজেন্ট’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

হ্যানিম্যান, ডা. কালেনের এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হতে পারেনি। হ্যানিম্যানের মতে জ্বর রক্তে পরজীবী বা কোনো গভীর অসামঞ্জস্যেও হয়। শুধু হজম শক্তি বাড়লেই জ্বর সাড়ে এই যুক্তি হ্যানিম্যানের কাছে দুর্বল মনে হয়। তাই তিনি নিজেই পরীক্ষা করে দেখার সিদ্ধান্ত নেন। ডা. হ্যানিম্যান নিজেই সুস্থ অবস্থায় ‘চায়না বার্ক’ কয়েকদিন সেবন করেন। তিনি লক্ষ্য করলেন যে, ‘চায়না বার্ক’ এর রস সেবনের পর তার মধ্যে যে সব লক্ষণ যথা কাঁপুনি, জ্বর ওঠা, ঘাম হওয়া, এবং দুর্বলতা সবিরাম জ্বরের মতোই চক্রাকার উপসর্গ তার নিজের মধ্যে দেখা দিচ্ছে। তাই কম্প জ্বরের ঔষধ হিসেবে ‘চায়না বার্ক’ সম্পর্কে ডা. কালেনের ব্যাখ্যার সমালোচনা করে হ্যানিম্যান বলেন, যদি লেখক খুঁজে বের করতেন যে ‘চায়না বার্ক’ কৃত্রিম প্রতিকূল জ্বর সৃষ্টি করার ক্ষমতা আছে তবে তিনি নিশ্চয়ই এত দৃঢ়তার সাথে এ ধরনের ব্যাখ্যা করতেন না।

হ্যানিম্যানের এ পর্যবেক্ষণ তাকে এক মহান সিদ্ধান্তে পৌঁছে দেয়। তিনি উল্লেখ করেন ‘সবিারম জ্বরের ঔষধ হিসেবে ‘চায়না বার্ক’ কাজ করে, কারণ সুস্থ মানুষের শরীরে তা সবিরাম জ্বরের লক্ষণ সৃষ্টি করতে পারে। এ ঘটনা থেকে হ্যানিম্যান প্রমাণ করেন যে, কোন ঔষধকে সুস্থ মানুষের শরীরে প্রয়োগ করে পরীক্ষা করলে যে সব লক্ষণ সৃষ্টি করে, অনুরূপ সদৃশ লক্ষণের রোগীকে সেই ঔষধ আরোগ্য করতে পারে। এটাই ‘Similia Similibus Curentur’ সদৃশ সদৃশকে আরোগ্য করে।

ডা. হ্যানিম্যান ১৭৯০ সালে সদৃশ চিকিৎসা পদ্ধতিকে হোমিওপ্যাথি নামে আখ্যায়িত করেননি। হ্যানিম্যান ১৭৯৬ সালে ‘ঔষধের আরোগ্য ক্ষমতা নির্ধারণে নতুন নিয়মনীতি ও পূর্ববর্তী নিয়মনীতি সম্পর্কে কতকগুলো পরীক্ষা নিরীক্ষা’ নামক নিবন্ধ রচনা করেন। এখানেই তিনি এ সদৃশ নিয়মের আরোগ্যকারী চিকিৎসা পদ্ধতিকে সর্ব প্রথম ‘হোমিওপ্যাথি’ নামে অভিহিত করেন।
হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পদ্ধতি প্রকৃতির সদৃশ নিয়ম অনুসরণ করে যা একমাত্র আদর্শ আরোগ্য পদ্ধতি। ডা. হ্যানিম্যানের মতে প্রকৃতির সদৃশ নিয়ম হলো ‘জীবন্ত দেহযন্ত্রে একটি দুর্বলতর সক্রিয় রোগ সমলক্ষণ বিশিষ্ট বলবতর সক্রিয় রোগ কর্তৃক স্থায়ীভাবে ধ্বংস হয়’। প্রকৃতিতে সদৃশ আরোগ্যের নিয়মে বা সদৃশ শক্তির একে অপরকে দূর করার অনেক উদাহরণ আছে। যেমন- ভোর বেলায় রাত্রিকালের নক্ষত্রসমূহের আলো আর দেখা যায় না। কারণ, অধিকতর শক্তিশালী ও সদৃশধর্মী সূর্যের আলোক চোখের স্নায়ুর উপর থেকে নক্ষত্রসমূহের আলোর প্রভাবকে দূর করে।

প্রকৃতিতে দেখা যায়, চুম্বকের সদৃশ মেরু একে অপরকে বিকর্ষণ করে। এ ক্ষেত্রে দূর্বলতার চুম্বকশক্তি সম্পন্ন চুম্বকের সদৃশ মেরুকে অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী চুম্বকের সদৃশ মেরু বিকর্ষণ করে অধিক দূরে সরিয়ে দেয়।

নিজের মনের শোক ও দুঃখ অন্যের অধিক বিপদের কাহিনী শুনে প্রশমিত হয়। সদৃশ দ্বারা সদৃশ অবসানের বহু উদাহরণ প্রকৃতিতে রয়েছে যা হোমিওপ্যাথির চিকিৎসা পদ্ধতিকে সমর্থন করে।

হোমিও চিকিৎসা পদ্ধতি বৈজ্ঞানিক ভিত্তির উপরও প্রতিষ্ঠিত যা হ্যানিম্যান কর্তৃক সুস্থ মানবদেহে হোমিওপ্যাথি ঔষধের পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষা ও বর্তমান চিকিৎসা পদ্ধতি ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা  যুক্তিগুলোই এর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি গঠন করে-

১। সদৃশ সদৃশকে আরোগ্য করে- (Similia Similibus Curentur)

এ তত্ত্বটি এসেছে ঔষধ প্রুভিং থেকে। হোমিওপ্যাথিতে ঔষধ প্রুভিং এর মাধ্যম প্রাপ্ত লক্ষণ বিশিষ্ট ঔষধের সুক্ষ্ম মাত্রার মাধ্যমে মানুষের দেহে সম লক্ষণ বিশিষ্ট প্রাকৃতিক রোগকে আরোগ্য করা হয়। আজকাল অনেক এলোপ্যাথি চিকিৎসায় সদৃশ নীতি দেখা যায়।

যেমন-

টিকা: রোগজীবাণুর দুর্বল রূপ দিয়ে সদৃশ রোগ প্রতিরোধ।

ডেসেনসিটাইজেশন (allergen immunotherapy): সুক্ষ্ম মাত্রার অ্যালার্জেন দিয়ে অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণ

কেমোথেরাপি: কিছু বিষাক্ত ড্রাগ ক্যানসার কোষকে টার্গেট করে যার রোগীর কিছু লক্ষণের সাথে মিল থাকে।

২। ঔষধ পরীক্ষণ (প্রুভিং)- মানবভিত্তিক নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষা:

এটি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার কেন্দ্রীয় বৈজ্ঞানিক স্তম্ভ। ঔষধের রোগারোগ্য ক্ষমতা জানার জন্য এ ছাড়া অন্য কোন বৈজ্ঞানিক পথ নেই। হোমিওপ্যাথি বা সদৃশবিধান ঔষধ প্রুভিং- এর উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পদ্ধতির প্রবর্তক জার্মান চিকিৎসক স্যামুয়েল হ্যানিম্যান (Samuel Hahnemann, 1755–1843) ২৫ বছরের পরিশ্রমে শতাধিক ঔষধ নিজের ও সহকারীদের উপর পরীক্ষা করেন। লক্ষণসমূহ সুনির্দিষ্টভাবে লিপিবদ্ধ করেন যার ভিত্তিতে রচিত হয়েছে মেটেরিয়া মেডিকা।

৩। ব্যক্তিভেদে চিকিৎসা: হোমিওপ্যাথিতে রোগ নয় রোগীর চিকিৎসা করে। রোগীকে আংশিকভাবে নয়, সামগ্রিকভাবে চিকিৎসা প্রদান করে। আজকের Personalized Medicine  যে ধারণা নিয়ে এসেছে মহাত্মা হ্যানিম্যান ২০০ বছর আগেই তা বলেছেন। আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় Genomic medicine, Pharmacogenomics,  Tailored therapy এর সবক্ষেত্রে ব্যক্তি খুবই গুরুত্বপূর্ণ যা হোমিওপ্যাথিতে বলে।

৪। সুক্ষ্ম মাত্রা (Minimal Dose)

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় সুক্ষ্ম মাত্রা এবং শক্তিকরণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ডা. হ্যানিম্যানের মতে দেহের মূল শক্তি সুক্ষ্ম অজড় সুক্ষ্ম জিবনীশক্তি (Vital Force) যা দেহের সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে দেহকে সূচারুভাবে পরিচালিত করে। জিবনীশক্তি ব্যতিত দেহ অসাড়, দেহের সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অনুভূতিহীন এবং নিস্ক্রিয় হয়ে যায়। মহাত্মা হ্যানিম্যান দেহের যে অজড় সুক্ষ্ম শক্তিকে Vital Force বলেছেন তা আমাদের মতে রুহ বা আল্লাহর হুকুম। মানুষের মৃত্যু হলে শুধু রুহ চলে যায় ফলে দেহের সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অনুভূতিহীন এবং নিস্ক্রিয় হয়ে যায়। এ সুক্ষ্ম জিবনীশক্তি বাহিরের কোন সুক্ষ্ম রোগ শক্তি দ্বারা যখন আক্রান্ত হয় তখন সে রোগশক্তিকে প্রতিহত করার চেষ্টা করে। কিন্তু জিবনীশক্তি যদি রোগ শক্তিকে প্রতিহত করতে না পারে তখন বিভিন্ন লক্ষণ প্রকাশের মাধ্যমে জীবনশক্তি সাহায্য কামনা করে। হোমিওপ্যাথিতে এ লক্ষণসমূহকে রোগ বলে। যেমন উচ্চ তাপমাত্রা, ব্যথা, উদরাময়, ক্ষত, রক্তপাত, কাঁপুনি, পিপাসা ইত্যাদি। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় এ সমস্ত লক্ষণসমূহ বিবেচনা করে সমলক্ষণ বিশিষ্ট একটি ঔষধ সুক্ষ্ম মাত্রায় প্রয়োগ করা হয়। এখানে সুক্ষ্ম রোগশক্তি যেহেতু সুক্ষ্ম জিবনীশক্তিকে আক্রান্ত করেছে তাই হোমিওপ্যাথি শক্তিকৃত সমলক্ষণ বিশিষ্ট ঔষধের সুক্ষ্ম মাত্রা প্রয়োগ করে রোগশক্তি থেকে জিবনীশক্তিকে মুক্ত করা হয়।

হোমিওপ্যাথির সুক্ষ্ম মাত্রার সাথে আধুনিক বিজ্ঞানের ‘হরমেসিস এফেক্ট’ তত্ত্বের সাথে মিলে যায়। হরমেসিস এফেক্ট হল একটি প্রক্রিয়া যেখানে কম ডোজ উপকারী প্রভাব ফেলে, কিন্তু বেশি ডোজ ক্ষতিকর হতে পারে। যেখানে অল্প পরিমাণে কোন চাপ বা বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শে শরীর শক্তিশালী হতে পারে, কিন্তু বেশি পরিমাণ তা মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।

৫। ঔষধ শক্তিকরণ (Potentization)

পদার্থকে যত সুক্ষ্ম থেকে সুক্ষ্মতর করা হয়, ততই তার প্রকৃতি শক্তিগত রূপে প্রকাশ পেতে থাকে। আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান দেখিয়েছে যে পদার্থ মূলত শক্তির ঘনীভূত রূপ। হোমিওপ্যাথির ঔষধ শক্তিকরণ প্রক্রিয়ায় যখন ভেষজকে বারবার মিশ্রিত ও প্রাবল্যপূর্ণ ঝাঁকুনির মাধ্যমে সুক্ষ্মতর হয়, তখন তার ভৌত কণা প্রায় বিলীন হয়ে যায়, কিন্তু তার গুণগত বা শক্তিগত তথ্য দ্রাবকের মধ্যে সঞ্চারিত হয়। সেই তথ্যই উচ্চমাত্রার পোটেন্সির ঔষধে কার্যকরী শক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।

হোমিওপ্যাথি ঔষধের শক্তিকরণের বিষয়টি আধুনিক বিজ্ঞানের সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয়। শক্তিকরণের ফলে হোমিওপ্যাথি ঔষধে আদৌ কোন উপাদান থাকে কিনা এটা গবেষণার বিষয়। তবে আধুনিক গবেষণা ন্যানো- ফার্মাকোলজির ইন্ডিয়া, ইতালি, রাশিয়া, এমআইটিসহ বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে হোমিওপ্যাথি ঔষধের ৩০ সি, ২০০ সি, ১ এম পোটেন্সিতে মূল পদার্থের ন্যানোপার্টিকেল দ্রবণের মধ্যে উপস্থিত থাকে। এই ন্যানোকণা সেলুলার রিসেপ্টরে কাজ করতে পারে, সিগন্যালিং পথ সক্রিয় করতে পারে এবং বায়োলজিক্যাল এফেক্ট সৃষ্টি করতে পারে। এগুলো আধুনিক ন্যানোমেডিসিনের সঙ্গে সংগতি রাখে।

৬.  হোমিওপ্যাথির জীবনীশক্তি ও সিস্টেম বায়োলজি

হোমিওপ্যাথিতে রোগ বলতে জীবনীশক্তির আক্রান্ত হওয়ার কথা বলে এবং আংশিক নয় সামগ্রিক চিকিৎসার কথা বলে। সুক্ষ্ম জিবনীশক্তি বাহিরের কোন সুক্ষ্ম রোগ শক্তি দ্বারা আক্রান্ত হয় তখন সে রোগশক্তিকে প্রতিহত করার চেষ্টা করে। কিন্তু জিবনীশক্তি যদি রোগ শক্তিকে প্রতিহত করতে না পারে তখন বিভিন্ন লক্ষণ প্রকাশের মাধ্যমে জীবনশক্তি সাহায্য কামনা করে। হোমিওপ্যাথিতে এ লক্ষণসমূহকে রোগ বলে। বর্তমান সিস্টেম বায়োলজি বলে রোগ শুধু একটি অঙ্গের সমস্যা নয়। সিস্টেম বায়োলজিতে রোগ হলো একটি এমন অস্বাভাবিক অবস্থা যেখানে কোষ, টিস্যু এবং অঙ্গগুলির সম্মিলিত নেটওয়ার্কের স্বাভাবিক কার্যকারিতা ব্যাহত হয় এবং এটি শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট উপাদানের সমস্যার কারণে নয়, বরং সমগ্র সিস্টেমের জটিল মিথস্ক্রিয়ার ফলে ঘটে। সিস্টেম বায়োলজি হোমিওপ্যাথির জিবনীশক্তি এবং সামগ্রিক চিকিৎসা পদ্ধতিকে সমর্থন করে।

৭. হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার ক্লিনিক্যাল প্রমাণ

গবেষণার ফলাফল ব্যতিত সাধারণভাবে বলা যায় যে হোমিও চিকিৎসা গ্রহণ করে উপকার পেয়েছে এমন কোন না কোন সদস্য অীধকাংশ পরিবারে বিদ্যমান। তবে গবেষণার ফলাফলে দেখা যায় সংক্রামক এবং অসংক্রামক অনেক রোগের ক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথি ঔষধ কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

স্বাস্থ্য সেবায় হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার সম্প্রসারণ

হোমিওপ্যাথি একটি বিজ্ঞান সম্মত বাস্তবভিত্তিক চিকিৎসা পদ্ধতি। অনুমান নির্ভর চিকিৎসার কোন স্থান হোমিওপ্যাাথিতে নেই। হোমিওপ্যাথি আদর্শ আরোগ্যে ও সামগ্রিক সুস্থতার পথ দেখায়। এ চিকিৎসা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন এবং নিরাপদ। সকল রোগের চিকিৎসা অল্প খরচে হোমিওপ্যাথির মাধ্যমে সম্ভব। শিশু, গর্ভবতী ও বৃদ্ধদের যেখানে আধুনিক অনেক ঔষধে সীমা বদ্ধতা আসে সে ক্ষেত্রে নিরাপদ, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন হোমিওপ্যাথি ঔষধ খুবই উপযোগী। হোমিওপ্যাথি শুধু দেহের চিকিৎসা করে না ইহা রোগীর মানসিক অবস্থাকেও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনায় এনে ঔষধ নির্বাচন করে থাকে। হোমিওপ্যাথি একটি সমন্বিত চিকিৎসা পদ্ধতি। এখন চিকিৎসা বিজ্ঞান এলোপ্যাথি, আয়ুর্বেদ, এবং লাইফস্টাইল মেডিসিন সমন্বিত পদ্ধতির দিকে যাচ্ছে। হোমিওপ্যাথি সেখানে একটি শক্তিশালী স্তম্ভ।

আধুনিক যুগে রোগ জটিল প্রকৃতি ধারণ করেছে এবং পূর্বের চেয়ে মানুষের উদ্বিগ্নতা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে গেছে যা সকলের পক্ষে বহন করা সম্ভব না। এ অবস্থায় হোমিও চিকিৎসা স্বাস্থ্য সেবার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পালন করতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথির বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংষ্কার এবং গবেষণার উন্নয়ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

হোমিওপপ্যাথি চিকিৎসক ও গবেষক, সাবেক অতিরিক্ত সচিব

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102