ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নিয়ে এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের উপস্থাপক ব্রিয়ান কিলমিয়াদে জানিয়েছেন, প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দ্বিতীয় পুত্র মুজতবা খামেনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হওয়ায় নাখোশ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে তাকে এ কথা জানিয়েছেন বলে দাবি করেছেন কিলমিয়াদে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা তার ‘অনুমোদন’ ছাড়া বেশিদিন টিকতে পারবেন না। বিমান হামলায় নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির উত্তরসূরি নির্বাচনের ক্ষেত্রে তেহরানকে আগে তার সম্মতি নিতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে রোববার (৮ মার্চ) মুজতবা খামেনিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করে দেশটির অ্যাসেমব্লি অব এক্সপার্টস। ইতোমধ্যে ইরানের এই সুপ্রিম লিডারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন দেশটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, বিপ্লবী গার্ড আইআরজিসি ও সেনাবাহিনী।
মুজতবা খামেনি কখনো কোনো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি কিংবা জনমতের মুখোমুখি হননি। তবে কয়েক দশক ধরে তিনি সর্বোচ্চ নেতার ঘনিষ্ঠ মহলে একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
৫৬ বছর বয়সী মুজতবা খামেনি উত্তরসূরি হওয়ার বিষয়টি নিয়ে কখনো জনসমক্ষে আলোচনা করেননি। এটি একটি সংবেদনশীল বিষয়। কারণ তার এই দায়িত্বপ্রাপ্তি দেশটিতে একটি রাজবংশীয় শাসনব্যবস্থা তৈরির ঝুঁকি তৈরি করবে, যা ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের আগের পাহলভি রাজতন্ত্রের কথা মনে করিয়ে দেয়।
এদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) মুজতবা খামেনিকে অভিনন্দন জানিয়েছে এবং তাকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি খামেনির প্রতি তাদের ‘একনিষ্ঠ ও আজীবন আনুগত্য’ ঘোষণা করে জোর দিয়ে বলেছে, তারা তার সব আদেশ পালন করতে এবং তা বাস্তবায়নে প্রস্তুত থাকবে।
আইআরজিসি আরও যোগ করেছে যে, ৮৮ সদস্যের বিশেষজ্ঞ পরিষদ (অ্যাসেমব্লি অব এক্সপার্টস) কর্তৃক খামেনির এই নির্বাচন ‘সবার কাছে প্রমাণ করেছে যে ইসলামিক ব্যবস্থার গতিশীলতা থেমে থাকে না এবং বিপ্লব ও ইসলামিক ব্যবস্থা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়।’
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীও নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনির প্রতি তাদের সমর্থন ঘোষণা করেছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সামরিক বাহিনী খামেনিকে ‘ন্যায়পরায়ণ, জ্ঞানী… ধর্মপ্রাণ এবং বিচক্ষণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তারা বলেছে, বিশেষজ্ঞ পরিষদ তাকে নির্বাচিত করে তাদের ‘বুদ্ধিমত্তার প্রমাণ’ দিয়েছে।