ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ অনেকটাই কমে গিয়েছে। ফলে হু-হু করে বাড়ছে দাম। ইতোমধ্যে ব্যারেলপ্রতি অপরিশোধিত তেলের দাম ছাড়িয়েছে ১০৮ ডলার, যা গত সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এমন অবস্থায় রাশিয়ার তেলের ওপর থেকে বড় পরিসরে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে যৌথভাবে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ইরান পাল্টা জবাব দিচ্ছে। চলমান যুদ্ধ ও গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে জ্বালানি তেলের এই দাম বৃদ্ধি ঘটল।
জ্বালানি তেল পরিবহনের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৩৯ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের মোট জ্বালানির ৬ ভাগের এক অংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের তিন ভাগের এক অংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানির সরবরাহ কমেছে প্রায় ২০ শতাংশ। কয়েক দিনের ব্যবধানে বিশ্বব্যাপী তেলের দাম বেড়েছে ২৫ শতাংশের বেশি।
যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালির দুই প্রান্তে আটকা পড়েছে জ্বালানি ও পণ্যবাহী কয়েকশ জাহাজ। হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করা জাহাজে সম্ভাব্য হামলার হুমকিতে মধ্যপ্রাচ্যের শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো ১৪০ মিলিয়ন ব্যারেল তেলের সরবরাহ স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী মোট চাহিদার প্রায় দেড় দিনের সমান। এরই মধ্যে জ্বালানির অপচয় রোধে মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশ তেল উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তেল উৎপাদনে কাটছাঁটের ঘোষণা দিয়েছে কুয়েতের প্রধান জাতীয় তেল কোম্পানি।
এদিকে মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট দাবি করেছেন, ইরানের তেল স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালায়নি। ইসরায়েল এই হামলা চালিয়েছে। তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাসশিল্পে হামলা চালানোর কোনো পরিকল্পনা ওয়াশিংটনের নেই। রোববার (৮ মার্চ) সিএনএনকে এসব কথা বলেন যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট।