ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) জানিয়েছে, আমরা তেহরানে একটি পর্যবেক্ষণমূলক হামলা চালিয়েছি। হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা। তাদের দাবি, এই হামলায় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আহত হয়েছেন। তবে ইরান থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। কূটনীতিকরা মনে করছেন, এ ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর থেকে ইরানে উত্তেজনা বেড়েছে। আইডিএফের দাবি, হামলাটি ‘পর্যবেক্ষণমূলক’ এবং লক্ষ্য ছিল ইরানের নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তেহরানের কেন্দ্রীয় এলাকায় হামলা চালানো হয়েছে, যেখানে প্রেসিডেন্টের অফিস এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের ভবন অবস্থিত।
কিছু সূত্র বলছে, হামলায় প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের অফিসে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে এবং তিনি সেখানে থাকার সময় আহত হয়েছেন।
ইরানি মিডিয়া এখনো এই দাবি নিশ্চিত করেনি, তবে ইসরায়েলি সংবাদ মাধ্যমে বলা হচ্ছে, প্রেসিডেন্টের অবস্থা গুরুতর। এই হামলা খামেনির মৃত্যুর পর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ অভিযানের অংশ। ফেব্রুয়ারি মাসে খামেনিকে হত্যা করার পর ইরান প্রতিশোধমূলক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইসরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে। এর জবাবে ইসরায়েল তেহরানে নতুন করে হামলা শুরু করেছে।
আইডিএফ বলছে, তারা ইরানের নেতৃত্বকে ‘ডেক্যাপিটেট’ করার লক্ষ্যে কাজ করছে। খামেনির মৃত্যুর পর ইরানে একটি অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান, বিচারব্যবস্থার প্রধান গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-ইজেই এবং আয়াতুল্লাহ আলিরেজা আরাফি। পেজেশকিয়ান এই কাউন্সিলের অন্যতম সদস্য। প্রেসিডেন্টের আহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তেহরানে উত্তেজনা বেড়েছে।
ইরানি রাষ্ট্রীয় টিভিতে প্রেসিডেন্টের অবস্থা নিয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। কয়েকদিন আগে তিনি ভিডিও বার্তায় বলেছিলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ‘শক্তিশালীভাবে’ প্রতিক্রিয়া জানাবে। যদি তিনি সত্যিই আহত হন, তাহলে ইরানের নেতৃত্বে আরও বড় শূন্যতা তৈরি হবে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ‘আমরা যুদ্ধ চাই না, তবে যদি আক্রমণ চলতে থাকে আমরা প্রতিরোধ করব।’
ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই হামলা ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং পারমাণবিক কার্যক্রমকে লক্ষ্য করে। প্রেসিডেন্টের অফিস লক্ষ্য করা হয়েছে কারণ সেখান থেকেই যুদ্ধের নির্দেশনা আসছে। তেহরানের আকাশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং ধোঁয়ার স্তম্ভ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ‘আমরা ভয়ে আছি। যদি নেতৃত্ব একের পর এক মারা যায়, দেশের ভবিষ্যৎ কী হবে?’