মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় চরম উত্তজনা ও সংঘাতের আবহে কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এফ-১৫ (F-15) যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। প্রাথমিক অসমর্থিত সূত্রমতে, ইরানের হামলার মুখে বিমানটি ভূপাতিত হয়। তবে বিধ্বস্ত হওয়ার আগেই এর বৈমানিকরা সফলভাবে বিমান থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন।
সোমবার সকালে ইরাক ও কুয়েত সীমান্তের নিকটবর্তী একটি জনবসতিহীন এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘মিডল ইস্ট আই’-এর প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। যদিও এই স্পর্শকাতর বিষয়ে এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটন কিংবা কুয়েত সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
আল জাজিরার সংবাদদাতার তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার মুহূর্তে দুই পাইলট প্যারাসুটের মাধ্যমে নিরাপদে বেরিয়ে আসেন। তাদের মধ্যে একজন পুরুষ এবং একজন নারী বৈমানিক ছিলেন। তবে ওই ক্রু-সদস্যরা মার্কিন নাগরিক কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স একজন প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে জানিয়েছে, কুয়েতে মার্কিন দূতাবাসের নিকটবর্তী এলাকা থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়তে দেখা গেছে। বিমান হামলার সতর্কবার্তা হিসেবে দেশটিতে সাইরেন বাজার পর পরই এই ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।
এদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, চলমান এই সংঘাত আরও অন্তত চার সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে। দেশটির বিশাল ভৌগোলিক আয়তনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “প্রতিপক্ষ যতই শক্তিশালী হোক না কেন, এই অভিযান শেষ করতে চার সপ্তাহের বেশি সময় লাগবে না।”
প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেছেন যে, চলমান সামরিক অভিযানে সৌদি আরবও অংশ নিয়েছে। তবে রিয়াদ প্রশাসন এখন পর্যন্ত এই অভিযানে তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।
বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এই ধরণের সংবাদ অত্যন্ত সংবেদনশীল। যেহেতু প্রতিবেদনে উল্লিখিত অনেক তথ্যই এখনো সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলো নিশ্চিত করেনি, তাই চূড়ান্ত সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সরকারি বিবৃতির অপেক্ষা করা বাঞ্ছনীয়।