যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ অভিযানে ইরানে ১ হাজার ২০০টির বেশি বোমা ফেলার কথা জানিয়েছে ইসরায়েলের বিমানবাহিনী। ইরানের যেসব স্থানে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) হামলা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়। এ হামলায় অন্তত ১৪৮ শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। আহত বহু মানুষ।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, স্কুলে হামলায় ডজনখানেক নিরীহ শিশু নিহত হয়েছে। এ হামলার জবাব দেওয়া হবে।
ইতোমধ্যে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ নিতে ষষ্ঠ ধাপের হামলা শুরু করেছে তেহরান। ইরানের বিপ্লবী গার্ড আইআরজিসি জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ২৭ সামরিক ঘাঁটিতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করেছে তারা। পাশাপাশি ইসরায়েলের তেল নফ বিমানঘাঁটি, তেল আবিবের হাকিরিয়ায় আইডিএফের কমান্ড সদর দপ্তরেও হামলা করেছে তারা।
এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুতে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। তারা বলেছে, ‘আমরা একজন মহান নেতাকে হারিয়েছি এবং আমরা তার জন্য শোকাহত।’ ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এমনটা বলা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সবচেয়ে নিষ্ঠুর সন্ত্রাসী ও মানবতার হত্যাকারীদের হাতে খামেনির শাহাদাতবরণের ঘটনা এটাই প্রমাণ করে, এই মহান নেতার বৈধতা এবং তার আন্তরিক সেবাগুলো স্বীকৃত।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘ইরানিদের প্রতিশোধের হাত থেকে তারা রেহাই পাবে না।’ দেশীয় ও বিদেশি ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় আইআরজিসি অটল থাকবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
হামলায় খামেনির নিহত হওয়ার খবর জানান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘খামেনি, ইতিহাসের অন্যতম নিকৃষ্ট ব্যক্তিদের একজন, মারা গেছেন।’
এদিকে সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুতে ইরানে রোববার (১ মার্চ) থেকে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার স্মরণে সাত দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।