মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানি শাসকদের হুমকি থামিয়ে দেওয়াই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার মূল লক্ষ্য। তেহরানের ক্রমাগত দাম্ভিকতার জবাবে এমন কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, আমার দেশের সামরিক বাহিনী ইরানে একটি বড় যুদ্ধ অভিযান শুরু করেছে। লক্ষ্য হলো মার্কিন জনগণকে রক্ষা করা এবং ইরানি শাসকদের হুমকি বন্ধ করা।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্বীকার করেছেন, ইরানের সঙ্গে হামলায় ইসরায়েলের সমন্বয় রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ধ্বংস করব এবং ক্ষেপণাস্ত্র শিল্পকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেব। ইরানের নৌবাহিনীকে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করব। একইসঙ্গে নিশ্চিত করব, এই অঞ্চলের সন্ত্রাসবাদী প্রক্সিরা আর স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারবে না।
ট্রাম্প আরও জানান, ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা হবে। তিনি বলেন, আমাদের বার্তা খুবই পরিষ্কার তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না। ইরানি শাসকরা শিগগিরই বুঝবে যে, মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি ও সামর্থ্যকে চ্যালেঞ্জ করার কোনো ক্ষমতা তাদের নেই।
অপরদিকে, ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার জবাবে তারা রণপ্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে এবং পাল্টা আঘাত হবে অত্যন্ত বিধ্বংসী। রয়টার্সের বরাত দিয়ে জানা যায়, যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের পাল্টা হামলা চালাতে পারে ইরান, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি বদলে দিতে পারে।
ইরানের সংবাদমাধ্যম জানায়, শনিবার ইরানের পাঁচটি শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। শহরগুলো হলো- তেহরান, ইস্পাহান, কোম, কারাজ এবং কেরমানশাহ। এ ছাড়া, ইসরায়েলের হামলার পর তেহরানের বেশ কয়েকটি এলাকায় মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক বন্ধ থাকায় যোগাযোগে সমস্যা দেখা দিয়েছে।
এই হামলার বিষয়ে আলজাজিরাকে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে।