রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ০৫:১১ অপরাহ্ন

খামেনির ইশারায় কেন চলে ইরান?

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে রেজা শাহ পাহলভীর রাজতন্ত্র উৎখাত হয়ে ইরানে স্থাপিত হয় ধর্মীয় প্রজাতন্ত্র। এই শাসনব্যবস্থায় চূড়ান্ত ক্ষমতা থাকে দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা বা সুপ্রিম লিডারের হাতে। বর্তমানে এই পদে রয়েছেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।

ইরানে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ও সংসদ সদস্যরা নির্বাচিত হলেও দেশের নীতি নির্ধারণের শেষ কথা বলেন খামেনি। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি এই পদে আসীন। রাষ্ট্রীয় ও সামরিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, পারমাণবিক কর্মসূচি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক- সবক্ষেত্রেই তার অনুমোদন বাধ্যতামূলক।

খামেনির উত্থান

ইসলামি বিপ্লবের স্থপতি আয়াতুল্লাহ রুহোল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সালে খামেনিকে সুপ্রিম লিডারের পদে বসানো হয়। এর আগে তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। খামেনির সময় আনা সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তাকে এই পদে বসানো সম্ভব হয়েছিল।

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা নির্বাচনের দায়িত্বে থাকে ‘বিশেষজ্ঞ মণ্ডলী’ বা অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস। প্রতি আট বছর অন্তর এই মণ্ডলীর সদস্যরা নির্বাচিত হন। তবে প্রার্থীকে বাছাই করে ‘গার্ডিয়ান কাউন্সিল’, যাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে বর্তমান সুপ্রিম লিডার। সাধারণত এই পদে একজন শীর্ষস্থানীয় শিয়া ধর্মগুরু বা আয়াতোল্লাহ হতে হয়।

খামেনি শুধুমাত্র ইরানের নেতা নন, তিনি শিয়া ইসলামি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি। তার আদর্শগত প্রভাব রয়েছে লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইরাকের শিয়া মিলিশিয়া ও ইয়েমেনের হাউতি গোষ্ঠীর উপর।

উত্তরসূরি নিয়ে জল্পনা

বর্তমানে ৮৬ বছর বয়সী খামেনির অসুস্থতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রশ্ন উঠেছে, তার পর কে সুপ্রিম লিডার হবেন। পূর্বে ইব্রাহিম রাইসির নাম জোরালোভাবে শোনা যেত। তবে ২০২৪ সালের মে মাসে এক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় তার মৃত্যুতে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য তিনজন উত্তরসূরির নাম খামেইনি ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন।

খামেনির অনুপস্থিতিতে ইরানের ক্ষমতার ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দেশের সামরিক ও ধর্মীয় নেতাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হতে পারে এবং ইসলামি বিশ্বে ইরানের প্রভাবও কমতে পারে।

১৯৮৯ সালে খামেইনি নিজে জানিয়ে দিয়েছিলেন, এই পদের জন্য তিনি ‘যোগ্য নন’। তবু রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে তাঁকেই বেছে নেয়া হয়। আজ, তার প্রভাব ইরান সীমার বাইরে প্রসারিত হওয়ায়, সুপ্রিম লিডারের উত্তরসূরি কে হবেন, সেটিই ইসলামি বিশ্বের নজরের কেন্দ্রবিন্দু।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102