নিউইয়র্ক–নিউ জার্সিতে রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকে সোমবার পর্যন্ত গত দশ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় তুষারঝড়ের আশঙ্কা করছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এতে ১৭ ইঞ্চি পর্যন্ত তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহারন মামদানি বলেছেন, সম্ভাব্য এই ঝড় এক দশকের মধ্যে শহরের প্রথম তুষারঝড় হতে পারে এবং সোমবার ভোরের মধ্যে ১৩ থেকে ১৭ ইঞ্চি পর্যন্ত তুষারপাত হতে পারে।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী রোববার সকালে হালকা তুষারপাত শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৬টার পর তা ভারী আকার ধারণ করবে। রাতভর ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাবে এবং সোমবার সকাল পর্যন্ত পরিস্থিতি বিপজ্জনক থাকতে পারে। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৫৫ মাইল বেগে দমকা হাওয়া ও উপকূলীয় এলাকায় জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা রয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী রোববার সকালে হালকা তুষারপাত শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৬টার পর তা ভারী আকার ধারণ করবে। রাতভর ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাবে এবং সোমবার সকাল পর্যন্ত পরিস্থিতি বিপজ্জনক থাকতে পারে। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৫৫ মাইল বেগে দমকা হাওয়া ও উপকূলীয় এলাকায় জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা রয়েছে।
মেয়র মামদানি সতর্ক করে বলেন, এটি কেবল শীতকালীন ঝড় নয়, বরং পূর্ণমাত্রার তুষারঝড়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার সকালের যাতায়াত ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’ হবে এবং বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাইরে না যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। স্কুল খোলা থাকবে কি না, সে বিষয়ে রোববার দুপুরের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানানো হবে; প্রয়োজনে দূরশিক্ষণ চালু হতে পারে।
নিউইয়র্ক সিটি স্যানিটেশন বিভাগ জানিয়েছে, আগের ঝড়ের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আগেভাগেই শত শত ভারী যন্ত্রপাতি মোতায়েন করা হয়েছে। ৭০০টি লবণ ছিটানো ট্রাক প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং তুষার অপসারণে প্রযুক্তিনির্ভর ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। ২,৬০০–এর বেশি কর্মী ১২ ঘণ্টার শিফটে কাজ করবেন। তুষার পরিষ্কারে অগ্রাধিকার পাবে বাসস্টপ, ক্রসওয়াক ও ফায়ার হাইড্র্যান্টের আশপাশ।
শহরজুড়ে ১৮টি উষ্ণায়ন বাস, ১১টি হাসপাতাল-পরিচালিত উষ্ণায়ন কেন্দ্র এবং ১৩টি স্কুলভিত্তিক উষ্ণায়ন কেন্দ্র খোলা রাখা হবে। মাদকাসক্তি প্রতিরোধ কেন্দ্রগুলোও চালু থাকবে।
মেট্রোপলিটন পরিবহন কর্তৃপক্ষের প্রধান জন লাইবার জানান, ট্রেন ও বাস চলবে, তবে খোলা লাইনের অংশে সেবা ব্যাহত হতে পারে। এ, এন, বি, কিউ, ৫ ও ৭ লাইনের কিছু অংশ তুষার জমার ঝুঁকি বেশি। প্রয়োজনে এক্সপ্রেস ট্রেন লোকাল লাইনে চলতে পারে, ফলে যাত্রাসময় বাড়তে পারে।
নিউজার্সিতেও একই ধরনের তুষারপাত ও দমকা হাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। উপকূলবর্তী ও নিম্নাঞ্চলে প্লাবনের ঝুঁকি বেশি। রাজ্য কর্তৃপক্ষ অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়াতে এবং জরুরি সামগ্রী মজুত রাখতে বাসিন্দাদের পরামর্শ দিয়েছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সম্ভাবনায় ইউটিলিটি সংস্থাগুলো অতিরিক্ত কর্মী প্রস্তুত রেখেছে।
জানুয়ারির তুষারঝড়ের পর দীর্ঘ শৈত্যপ্রবাহে নিউইয়র্কে কমপক্ষে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল বলে সিটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার পর এবার প্রস্তুতি আরও জোরদার করা হয়েছে। তবে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বুধবারের মধ্যে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে, যা পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে সহায়ক হবে।
নাগরিকদের প্রতি পরামর্শ
* অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলুন।
* জরুরি খাদ্য, পানি ও ওষুধ মজুত রাখুন।
* মোবাইল ও প্রয়োজনীয় ডিভাইস চার্জ করে রাখুন।
* প্রবীণ ও গৃহহীনদের খোঁজ নিন।
* তুষারপাতের সময় গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকুন।
পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে—সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা ও আবহাওয়া বুলেটিন অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।