শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:২৪ পূর্বাহ্ন

বোর্ড অব পিসের আড়ালে গাজায় ৩৫০ একরের ঘাঁটি নির্মাণের নথি ফাঁস!

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠা ও পুনর্গঠনের লক্ষ্যে গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পরিষদের আড়ালে বিশাল এক সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের গোপন পরিকল্পনা করছে মার্কিন প্রশাসন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের হাতে আসা নথির বরাতে জানা গেছে, প্রায় ৩৫০ একর জায়গাজুড়ে এই ঘাঁটিটি নির্মাণ করা হবে।

এটি মূলত ‘আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী’র (আইএসএফ) প্রধান অপারেশনাল সেন্টার হিসেবে ব্যবহৃত হবে, যেখানে প্রায় পাঁচ হাজার সেনাসদস্যের থাকার ব্যবস্থা থাকবে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সভাপতিত্বে গঠিত এই শান্তি পরিষদই মূলত গাজা শাসন ও এই ঘাঁটি পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে।

ফাঁস হওয়া নথি অনুযায়ী, দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতল এলাকায় ধাপে ধাপে এই সামরিক আউটপোস্ট গড়ে তোলা হবে। পুরো এলাকাটি কাঁটাতারের বেড়ায় ঘেরা থাকবে এবং নিরাপত্তার জন্য ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার বসানো হবে।

এ ছাড়া ঘাঁটির ভেতরে ছোট অস্ত্র প্রশিক্ষণ রেঞ্জ, সামরিক সরঞ্জামের গুদাম এবং উন্নত বায়ু চলাচল সুবিধাযুক্ত বিশেষ বাঙ্কার তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে মাটির নিচে হামাসের সুড়ঙ্গ শনাক্ত করতে বিশেষ ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ চালানোর নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে নথিতে।

এদিকে বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে শান্তি পরিষদের প্রথম বৈঠকে ১০ বিলিয়ন ডলার অনুদান ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৈঠকে ইন্দোনেশিয়া আট হাজার সেনা পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে এবং কাতার ও সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বড় অঙ্কের অর্থ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

তবে ফিলিস্তিনিদের কোনো প্রতিনিধি ছাড়াই অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ইউরোপের প্রভাবশালী দেশগুলো অংশ নেয়নি। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, শান্তি পরিষদ মূলত একটি আইনি আবরণ, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র গাজায় নিজের আধিপত্য নিশ্চিত করতে চাইছে।

গাজায় এই ঘাঁটি নির্মাণের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে মাটির নিচে থাকা হামাসের সুড়ঙ্গ পথ এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা হাজার হাজার মরদেহ। নথিতে ঠিকাদারদের মাটি পরীক্ষার মাধ্যমে সুড়ঙ্গ শনাক্ত করার এবং মানুষের দেহাবশেষ পাওয়া গেলে বিশেষ প্রটোকল অনুসরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে স্থানীয়দের অনুমতি ছাড়া এমন সামরিক স্থাপনা নির্মাণকে ‘দখলদারিত্ব’ হিসেবে অভিহিত করেছেন অনেক বিশেষজ্ঞ

গাজার এই নির্ধারিত জমিতে বর্তমানে ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণ থাকলেও সেখানে সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা। ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত আইনজীবী ডায়ানা বুট্টু একে ‘দখলদারিত্ব’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গাজায় কোনো মার্কিন সেনা সরাসরি মোতায়েন করা হবে না। তবে ফাঁস হওয়া নথির বিষয়ে তারা বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102