কালের বিবর্তনে গরু দিয়ে হালচাষ প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। এরই মধ্যে নতুনভাবে শুরু হয়েছে গরুর বদলে ঘোড়া দিয়ে জমি চাষ ও সমতল করার কাজ। বর্তমানে রাজশাহীর তানোর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গরুর পরিবর্তে ঘোড়া দিয়ে জমি সমতল করার দৃশ্য দেখা যাচ্ছে।
ধান রোপণের আগে জমিতে কয়েকবার চাষ দেওয়া হয় এবং শেষে মই দিয়ে সমতল করা হয়। এরপর শুরু হয় বোরো রোপণ। জমি সমতল করার কাজে আগে দুটি গরু দিয়ে মই টানা হতো। তবে ব্যতিক্রম কৃষক আলতাফ। তিনি দুটি গরুর পরিবর্তে ঘোড়া ব্যবহার করে জমি সমতল বা মই দেওয়ার কাজ করে বরেন্দ্র অঞ্চলে চমক সৃষ্টি করেছেন।
সম্প্রতি ঘোড়া দিয়ে জমি সমতল করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তেই তা নেটদুনিয়ায় ভাইরাল হয়। কৃষক আলতাফের বাড়ি তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর কচুয়া গ্রামে। কৃষিনির্ভর এই এলাকায় নানা ধরনের কৃষিকাজ দেখা গেলেও ঘোড়া দিয়ে মই দেওয়ার ঘটনা খুবই বিরল।
জানা গেছে, বোরো মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষকেরা চাষাবাদ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। আগে জমি চাষ ও সমতলের জন্য গরু ছিল প্রধান ভরসা। জমিতে কয়েকবার চাষ দেওয়ার পর সমান করার জন্য মই টানা হতো। মই টানতে দুটি গরু ও একজন মানুষের প্রয়োজন হতো। সময়ের পরিবর্তনে এখন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই চাষের জন্য পাওয়ার টিলার ব্যবহার করা হয়। শুধু সমতল করার কাজে গরু দিয়ে মই টানা হয়।
কৃষক আলতাফ জানান, জমি চাষের পর সমতল করার জন্য অনেকের কাছে ধরনা দিয়েছিলেন। কিন্তু রোপণের ভরা মৌসুমে সবাই ব্যস্ত থাকায় তিনি নিজের ঘোড়া ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, চিন্তা করে দেখলাম, ঘোড়া দিয়ে তো কাজটা করা সম্ভব। সেই ভাবনা থেকেই ঘোড়া দিয়ে মই টেনেছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহম্মেদ বলেন, ঘোড়া দিয়ে মই টেনে জমি সমতল করার ঘটনা খুবই কম। সাধারণত দুটি গরু ও একজন মানুষ লাগে। তবে কৃষক আলতাফ ঘোড়া ব্যবহার করে সফলভাবে জমি রোপণের উপযোগী করে তুলেছেন।