নাটোরের নলডাঙ্গায় বিএনপিকে কোণঠাসা করতে তৎপর হয়ে উঠেছে কথিত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের গুপ্ত এজেন্টরা—এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। তারা দাবি করেন, এসব ব্যক্তি কৌশলে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে মিশে দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল সৃষ্টি করছে এবং বিএনপি নেতাদের হেয়প্রতিপন্ন করতে একটি চক্র মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।
বুধবার দুপুর ২টার দিকে নলডাঙ্গার একটি মিডিয়া হাউজে আয়েজউদ্দিন, রাজিব হোসেন, শেফালী বেগম ও জয়নব বেগম সংবাদ সম্মেলন করে আওয়ামী লীগ কর্মী জালাল হোসেনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ধরে তার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে শেফালী বেগম অভিযোগ করে বলেন, নলডাঙ্গা মধ্যপাড়ার মৃত দলিল উদ্দিনের ছেলে জালাল হোসেনের বিরুদ্ধে তার জমি দখলের চেষ্টা ও ক্ষতিসাধনের অভিযোগ রয়েছে। তিনি জানান, নলডাঙ্গা মৌজার জমি মোছা. হাজেরা ও মো. রাজিবের নিকট থেকে ২০১৭ সালে ক্রয় করে নিজের নামে খাজনা-খারিজ করে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন। জমির আরএস খতিয়ান-৮৭, আরএস দাগ-৪৬২, পরিমাণ ১.৭৬ শতাংশ। ওই বসতভিটায় তিনি কলাগাছ রোপণ করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, গত মঙ্গলবার রাতে জালাল হোসেন তার কলাবাগানে প্রবেশ করে তিনটি কলার কাঁদি কেটে প্রায় তিন হাজার টাকার ক্ষতি করেন এবং সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জালাল তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। বিষয়টি গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে মোছা. জয়নব বেগম অভিযোগ করে বলেন, তার স্বামী আবুল কালাম আজাদের পৈতৃক বসতভিটা তিনি ওয়ারিশসূত্রে প্রাপ্ত হয়েছেন। আরএস খতিয়ান-৮৭, আরএস দাগ-৪৬২ ও ২৪৪, পরিমাণ ৮.৭৫ শতাংশ জমি দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাতে জালাল হোসেন তার বসতবাড়িতে প্রবেশ করে শয়নঘরে তালা দিয়ে সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করেন। পরদিন ১৬ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টার দিকে এ বিষয়ে জানতে চাইলে জালাল তাকে গালিগালাজ ও হুমকি দেন। তিনি এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানান।
জয়নবের ছেলে রাজিব অভিযোগ করেন, জালাল হোসেন একজন আওয়ামী লীগ কর্মী এবং আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, ৪৬২ দাগের ১ শতক ৪ লিংক জমি প্রপান ফিলিং স্টেশনের মালিক এস এম জাহিদুল ইসলামের কাছে বিক্রি করার পরও জালাল তাদের নানাভাবে হয়রানি ও মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
প্রপান ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী আয়েজউদ্দিন বলেন, তার বিরুদ্ধে জালাল হোসেন যে অভিযোগ করেছেন তা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তিনি এ অপপ্রচারের বিচার দাবি করেন।
এ বিষয়ে জালাল হোসেনের সঙ্গে বারবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
নলডাঙ্গা থানার ওসি নুরে আলম বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।