বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পর আপাতত নিজ বাসভবন গুলশানের ১৯৬ নম্বরে থাকবেন। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সংস্কার কাজ শেষ হতে প্রায় এক মাস সময় লাগতে পারে, যা গণপূর্ত অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন। সংস্কার শেষ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর জন্য এখানে উঠার ব্যবস্থা করা হবে।
একই সঙ্গে নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য একটি স্থায়ী ও আধুনিক বাসভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও প্রকল্পটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবে সম্ভাব্যভাবে শেরেবাংলা নগর এলাকায় এটি নির্মাণের চিন্তা করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা ও প্রটোকল ব্যবস্থা
প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা ও প্রটোকলে বিভিন্ন স্তরের নিরাপত্তা সংস্থা নিয়োজিত থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে:
স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ): ১২০ থেকে ১৮০ জন সদস্য।
বাংলাদেশ পুলিশ (এসপিবিএন/ডিএমপি): প্রধানমন্ত্রীর ক্লোজ প্রটেকশন, বুলেটপ্রুফ রিং, গাড়ি কনভয়ে নিরাপত্তা, বাসভবন ও সফরের নিরাপত্তার জন্য ৩০০ থেকে ৬০০ জন।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী: প্রটোকল ডিউটি, অনুষ্ঠানস্থল ও যাত্রাপথের নিরাপত্তা, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে ২০০ থেকে ৪০০ জন।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী (পিজিআর/সহায়ক): স্থির নিরাপত্তা, পেরিমিটার গার্ড ও চেকপোস্টে দায়িত্ব পালনকারী ৫০ থেকে ১০০ জন।
স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স (এসআইএফ, পূর্বনাম র্যাব): রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান, সামরিক সম্মান প্রদর্শন এবং উচ্চ ঝুঁকিতে ব্যাক-আপ নিরাপত্তা হিসেবে ৩০ থেকে ৬০ জন।
গোপন গোয়েন্দা সহায়তা: হুমকি প্রতিরোধ, জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ ও প্রটোকলে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে সাদা পোশাকে সর্বকনিষ্ঠ অবস্থানে থাকবেন এসবি, এনএসআই এবং এসএসএফ সদস্যরা।
প্রধানমন্ত্রীর অফিস ও নিয়োগ
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের একান্ত সচিব (পিএস), সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) এবং প্রটোকল অফিসার পদে তিনজন কর্মকর্তার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মিঞা মুহাম্মদ আশরাফ রেজা ফরিদীকে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব (পিএস-১) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই পদে থাকা পর্যন্ত বা পিএস হিসেবে বহাল রাখার অভিপ্রায় বজায় থাকায়, নিয়োগ কার্যকর থাকবে।