সংসদ সদস্যদের পেনশন বা অবসরকালীন ভাতা বাতিলে আইন প্রণয়ন করেছে শ্রীলঙ্কা। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) পার্লামেন্টে বিলটি ভোটের জন্য উত্থাপনের পর দেশটির ২২৫ সংসদ সদস্যের মধ্যে ১৫৪ জন সেটির পক্ষে ভোট দিয়েছেন। ফলে এখন থেকে দেশটির কোনো সাবেক সংসদ সদস্য কিংবা প্রয়াত সংসদ সদস্যদের স্ত্রীরা আর পেনশন পাবেন না।
করোনা মহামারি এবং বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ তলানিতে ঠেকে যাওয়ায় ২০২১ সাল থেকে টালমাটাল অবস্থায় আছে শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি। এখনো দেশটির অর্থনীতি পুরোপুরি মহামারিপূর্ব অবস্থায় ফিরে যেতে পারেনি।
এ পরিস্থিতিতে আমূল অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হন বামপন্থি রাজনীতিক অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকে। প্রেসিডেন্টের দায়িত্বভার গ্রহণের পর একে একে এমপিদের আবাসন, যানবাহন এবং দেহরক্ষীগত সুবিধা বাতিল করেন তিনি। এবার বাতিল হলো পেনশন।
এদিকে মঙ্গলবার পার্লামেন্টে উত্থাপিত পেনশন বাতিল-সংক্রান্ত বিলটির বিরোধিতা করেছিলেন শ্রীলঙ্কার বিরোধীদলীয় নেতা সাজিথ প্রেমাদাসা। এ ব্যাপারে পার্লামেন্টের বক্তৃতায় তিনি বলেছেন, ‘এই বিল আসলে আইনপ্রণেতাদের দুর্নীতি করার বৈধতাপত্র। পেনশন আইনপ্রণেতাদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। যদি এটি বাতিল হয়ে যায়, তাহলে তারা দ্বিধাহীনভাবে দুর্নীতি করা শুরু করবেন।’
এর আগে গত সেপ্টেম্বরে সাবেক প্রেসিডেন্টদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাও বাতিল করে শ্রীলঙ্কা সরকার।