ফুটবল মাঠে গোলপোস্ট আগলে রাখা ব্যক্তিটিই রাজনীতির মাঠে ব্যালট বাক্সে লড়াই করেছেন। গ্যালারির গর্জন তোলা সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক ঢাকা-১৬ আসনে ভোটের লড়াইয়ে মাত্র ৩ হাজার ৩৬১ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন।
বিস্ময়কর বিষয় হলো, পরাজয়ের খবর ছাপিয়ে এখন যে খবরটি দেশের ক্রীড়াঙ্গনে ঝড় তুলেছে তা হলো—ক্রীড়ামন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে তিনিই সবার চেয়ে এগিয়ে! রাজনীতির জটিল সমীকরণে সরাসরি সংসদ সদস্য নির্বাচিত না হয়েও আমিনুল হককে ‘টেকনোক্র্যাট’ কোটায় মন্ত্রী করার জোরালো গুঞ্জন চলছে।
এই আলোচনায় সামনে এসেছে আরও একটি নাম, গুঞ্জন চলছে আলী আজগর লবিও হতে পারেন যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী।
তবে বিএনপির চেয়ারম্যান গুলশান কার্যলয়ের একটি বিশ্বস্ত সূত্র বলছে, দল থেকে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে সাবেক অধিনায়ক আমিনুলকে।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, আমিনুল (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৬৭ ভোট, আর জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল বাতেন (দাঁড়িপাল্লা) বিজয়ী হয়েছেন ৮৮ হাজার ৮২৮ ভোট পেয়ে।
আমিনুলের সতীর্থদের মতে, এই পরাজয় যতটা না জনগণের প্রত্যাখ্যান, তার চেয়ে বেশি মাঠের বাইরের জটিল রাজনীতির ফলের শিকার।
তবে সংবিধানের সুযোগ নিয়ে ‘টেকনোক্র্যাট’ কোটায় মন্ত্রী হওয়ার এই সম্ভাবনা আমিনুলের সমর্থকদের নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।
জাতীয় দলের সাবেক গোলরক্ষক ও আমিনুলের রুমমেট বিপ্লব ভট্টাচার্য্য বলেন, আমিনুল গত এক দশকে যে পরিমাণ জুলুম-নিপীড়ন সহ্য করেছে, যা অনেক শীর্ষ নেতাও করেননি। তার এই নিবেদন মাঠের লড়াইয়ে হয়তো জয় পায়নি, কিন্তু তাকে মন্ত্রী হিসেবে প্রাপ্য সম্মান দেওয়া উচিত।
জাতীয়তাবাদী ক্রীড়া দলের আহ্বায়ক ও দাবাড়ু নিয়াজ মোর্শেদ আমিনুলকে নিয়ে উচ্চাশা ব্যক্ত করে বলেন, শুধু খেলোয়াড় হিসেবে নয়, একজন পরিশ্রমী রাজনৈতিক কর্মী হিসেবেও সে যোগ্য। এ মুহূর্তে ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি আমিনুলই।
এদিকে আমিনুল হকের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, দলের হাইকমান্ড জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক এই অধিনায়ককে বড় দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক সংকেত দিয়েছে।