ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে দেশে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, যেকোনো মূল্যে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে হবে এবং কোনো ধরনের সহিংসতা, প্রতিশোধ বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের বলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
নেতাকর্মীদের শান্ত ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সময় কোথাও কোথাও ভুল বোঝাবুঝি বা উত্তেজনা তৈরি হয়ে থাকতে পারে, তবে তা যেন কোনোভাবেই প্রতিশোধ বা প্রতিহিংসায় রূপ না নেয়।
তিনি বলেন, আমার বক্তব্য স্পষ্ট যেকোনো মূল্যে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। কোনোরকম অন্যায় বা বেআইনি কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। দল-মত-ধর্ম-বর্ণ কিংবা ভিন্নমত যা-ই হোক, কোনো অজুহাতেই দুর্বলের ওপর সবলের আক্রমণ মেনে নেওয়া হবে না।
তারেক রহমান আরও বলেন, ন্যায়পরায়ণতাই হবে আদর্শ। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা না গেলে সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হতে বাধ্য। সরকারি দল বা বিরোধী দল সবার জন্য আইন সমানভাবে প্রযোজ্য হবে এবং আইনের প্রয়োগ হবে বিধিবদ্ধ নিয়মে।
নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর এটি ছিল তারেক রহমানের প্রথম সংবাদ সম্মেলন। এতে সূচনা বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং সমাপনী বক্তব্য দেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপিকে বিজয়ী করায় দেশবাসীকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, এ বিজয় বাংলাদেশের, এ বিজয় গণতন্ত্রের, এ বিজয় গণতন্ত্রকামী জনগণের। আজ থেকে আমরা সবাই স্বাধীন।
তিনি উল্লেখ করেন, ভঙ্গুর অর্থনীতি, অকার্যকর সাংবিধানিক ও বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান এবং দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই নতুন সরকার যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে। জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দীর্ঘ দেড় দশক পর দেশে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে দায়বদ্ধ সংসদ ও সরকার প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব রাজনৈতিক দলকে অভিনন্দন জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, দেশ গঠনে সবার মতামত গুরুত্বপূর্ণ। ভিন্নমত থাকলেও জাতীয় স্বার্থে ঐক্য অটুট রাখতে হবে।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলগুলোই গণতন্ত্রের বাতিঘর। সরকার ও বিরোধী দল নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে।
শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
রাষ্ট্র মেরামতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তারেক রহমান বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী ঘোষিত ৩১ দফা ও দলীয় ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।
দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে তিনি বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে তার অবদান জাতি চিরদিন স্মরণ রাখবে।
বক্তব্য শেষে তারেক রহমান দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।