ত্রয়োদশ নির্বাচনে ন্যূনতম ভোট না পাওয়ায় বরিশালের ৬টি আসনে অংশ নেওয়া ৩৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ২০ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে। গণ প্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ অনুযায়ী কোনো আসনে প্রদত্ত মোট ভোটের এক অষ্টমাংশ না পেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর নির্বাচনি জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। সেই হিসাবে বরিশালে এবার অর্ধেকের বেশি প্রার্থী জামানত হারাচ্ছেন। এ তালিকায় জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের আলোচিত প্রার্থী কারান্তরীণ গোলাম কিবরিয়া টিপুও রয়েছেন।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বরিশাল-১ (আগৈলঝাড়া-গৌরনদী) আসনে জাতীয় পার্টির (জেপি) বাইসাইকেল প্রতীক নিয়ে ছেরনিয়াবাত সেকেন্দার আলী পেয়েছেন ১ হাজার ৭৩৬ ভোট। একই আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীক নিয়ে মো. রাসেল সরদার পেয়েছেন ৬ হাজার ৮৪৬ ভোট। এ আসনে মোট প্রদত্ত ভোট ছিল ২ লাখ ৩ হাজার ৮৬০। ন্যূনতম ভোট না পাওয়ায় এই দুই প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।
বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে সবচেয়ে বেশি, মোট ৬ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে। এই আসনে জাতীয় পার্টির (জেপি) বাইসাইকেল প্রতীক নিয়ে আব্দুল হক পেয়েছেন ২ হাজার ৩২৯ ভোট। জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে এম এ জলিল পেয়েছেন ১ হাজার ১৯৯ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মাদ নেছার উদ্দিন হাতপাখা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৬ হাজার ২১ ভোট। জাসদের মো. আবুল কালাম আজাদ মোটরগাড়ি প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১৩৫ ভোট। গণঅধিকার পরিষদের রঞ্জিত কুমার বাড়ৈ ট্রাক প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৭০০ ভোট। এনপিপির সাহেব আলী আম প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১৮৫ ভোট। এ আসনে মোট প্রদত্ত ভোট ছিল ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭৫। ফলে এ আসনের ৬ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।
বরিশাল-৩ আসনে ট্রাক প্রতীক নিয়ে এইচ এম ফারদিন ইয়ামিন পেয়েছেন ৮৬০ ভোট। জাতীয় পার্টির গোলাম কিবরিয়া টিপু লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১৪ হাজার ১৮৪ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুহাম্মাদ সিরাজুল ইসলাম হাতপাখা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১৬ হাজার ৩২৫ ভোট। মই প্রতীক নিয়ে আজমুল হাসান জিহাদ পেয়েছেন ২১৪ ভোট। এ আসনে মোট প্রদত্ত ভোট ছিল ১ লাখ ৭৭ হাজার ৭১৬। ফলে এ আসনের চার প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।
বরিশাল-৪ আসনে মুক্তিজোটের আব্দুল জলিল ছড়ি প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৪১৩ ভোট। জাসদের আব্দুস সালাম খোকন মোটরগাড়ি প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৩৩৪ ভোট। এ আসনে মোট প্রদত্ত ভোট ছিল ২ লাখ ৪৫ হাজার ৪। ফলে এ দুই প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।
গুরুত্বপূর্ণ বরিশাল-৫ (বরিশাল সদর ও সিটি কর্পোরেশন) আসনে ন্যূনতম ভোটের কম পাওয়ায় জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের আখতার রহমানসহ তিন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। আখতার রহমান লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৯০৯ ভোট। বাকি দুই প্রার্থী এনপিপির আব্দুল হান্নান সিকদার আম প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৪৯৪ ভোট এবং বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) কাঁচি প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৩০০ ভোট। এ আসনে মোট প্রদত্ত ভোট ছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৪৭০। ফলে এই আসনেও তিন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।
বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনেও তিন প্রার্থী জামানত হারাচ্ছেন। এই আসনে বাংলাদেশ মুসলিম লীগের আব্দুল কুদ্দুস হারিকেন প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২৪৪ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. কামরুল ইসলাম খান ফুটবল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৩৬৬ ভোট। গণঅধিকার পরিষদের মো. সালাউদ্দিন মিয়া ট্রাক প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১৩৯ ভোট। এ আসনে মোট প্রদত্ত ভোট ছিল ১ লাখ ৭১ হাজার ১৩৮। ফলে ওই আসনের এই তিন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।
বরিশালের ৬টি আসনে অর্ধেকের বেশি প্রার্থী ন্যূনতম ভোট না পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্তের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এর মধ্যে বরিশাল-৩ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া টিপুর জামানত বাজেয়াপ্তের বিষয়টি বেশি আলোচিত হচ্ছে।
বরিশালের জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমন বলেন, নির্বাচনি বিধি অনুযায়ী মোট প্রদত্ত ভোটের অন্তত আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। সেই হিসেবে বরিশালের ৬টি আসনে অর্ধেকের বেশি প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। তাদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে এবং পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের জানিয়ে দেওয়া হবে।