পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার সাউথ ওয়েস্ট উপকূলে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ১৩ বছরের এক কিশোর তার সাহসিকতা ও উপস্থিত বুদ্ধির মাধ্যমে নিজের মা ও দুই ভাইবোনের প্রাণ বাঁচিয়েছে। শুক্রবার পরিবারটি প্যাডেলবোর্ড ও একটি কায়াক নিয়ে সমুদ্রে নামলে হঠাৎ প্রবল বাতাস শুরু হয়। বাতাসের তীব্রতায় তারা দ্রুত তীর থেকে অনেক দূরে ভেসে যেতে থাকে।
পরিস্থিতি বুঝে কিশোরটি প্রথমে কায়াক চালিয়ে তীরে ফেরার চেষ্টা করে। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই কায়াকে পানি ঢুকে পড়ায় সেটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
এ সময় বড় সিদ্ধান্ত নেয় ১৩ বছরের ছেলেটি। সে কায়াক ছেড়ে দিয়ে প্রায় চার কিলোমিটার সাঁতরে তীরে পৌঁছানোর চেষ্টা করে। দীর্ঘ সময় সংগ্রাম করার পর অবশেষে সে তীরে পৌঁছাতে সক্ষম হয় এবং সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেয়।
খবর পেয়ে পুলিশ, স্বেচ্ছাসেবী উদ্ধারকারী দল একটি উদ্ধার হেলিকপ্টার নিয়ে অভিযান শুরু হয়। রাতে উদ্ধার হেলিকপ্টার সমুদ্রের প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে ছেলেটির মা ও দুই ভাইবোনকে একটি প্যাডেলবোর্ড ধরে ভেসে থাকতে দেখতে পায়। পরে উদ্ধারকারী নৌযান সেখানে পৌঁছে তাদের নিরাপদে তীরে নিয়ে আসে।
উদ্ধারকারীরা জানান, কিশোরটির সাহস, ধৈর্য ও দ্রুত সিদ্ধান্ত না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারত। পুলিশও জানায়, তার বিচক্ষণতা ও সাহসিকতার কারণেই পরিবারের সবাই প্রাণে বেঁচে গেছে।
পরিবারের সবাইকে সতর্কতামূলকভাবে হাসপাতালে নেওয়া হলেও তারা সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। এই ঘটনায় ১৩ বছরের ওই কিশোরকে স্থানীয়রা একজন সত্যিকারের নায়ক হিসেবে প্রশংসা করছেন।