ক্রিকেটবিশ্বে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানে শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, কোটি কোটি ডলারের বাণিজ্যিক সুযোগ। কিন্তু আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বাতিল করায় ভারতীয় সম্প্রচারক, আন্তর্জাতিক সম্প্রচারক, বিসিসিআই ও আইসিসি মিলিয়ে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতির মুখোমুখি।
এই সরাসরি আর্থিক ক্ষতির মূল সূত্র হলো বাংলাদেশ দলের বিশ্বকাপ বয়কট। বাংলাদেশ বিশ্বকাপে না থাকায় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ভারতের সঙ্গে খেলতে অনীহা প্রকাশ করে। তারা জানায়, বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে ফিরিয়ে আনলেই ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে পাকিস্তান।
পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে বৈঠকের পর পিসিবি জানায়, ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ ম্যাচ খেলবে না। এর ফলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক ম্যাচটি এবারের আসরে আর অনুষ্ঠিত হচ্ছে না।
ভারত টুর্নামেন্টের আংশিক আয়োজক হলেও পাকিস্তান তাদের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় খেলবে। পাকিস্তান প্রথম ম্যাচ খেলবে ৭ ফেব্রুয়ারি নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে, ১০ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি নামিবিয়ার বিরুদ্ধে।
বিশ্ব ক্রিকেটে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচকে সবচেয়ে বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক হিসেবে ধরা হয়। এক ১০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপন স্লটের মূল্য ২৫-৪০ লাখ রুপির মধ্যে, যা ভারতের অন্য যেকোনো ম্যাচের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি।
এক ম্যাচ থেকেই বিজ্ঞাপন থেকে প্রায় ৩০০ কোটি রুপি আয় হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রচার অধিকার, স্পনসরশিপ, টিকিট বিক্রি ও অন্যান্য বাণিজ্যিক কার্যক্রম মিলিয়ে এই ম্যাচের মোট বাজারমূল্য প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা।
পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার রশিদ লতিফ বলেন, এত বড় বাজারে ধাক্কা লাগলে তার প্রভাব শুধু একটি সম্প্রচারকেই নয়, বিসিসিআই এবং শেষ পর্যন্ত আইসিসিকেও প্রভাবিত করে।
ইতোমধ্যে বিপুল করপোরেট বিনিয়োগ হয়েছে, যার মধ্যে ভারতের বড় মিডিয়া গ্রুপ প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ডলার এবং বিশ্বের অন্যান্য অংশ থেকে প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলার।
ভারত ও পাকিস্তানের গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা যায়, ভারতীয় সম্প্রচার অধিকারধারী প্রতিষ্ঠানই সবচেয়ে বড় ক্ষতির সম্মুখীন হবে। এ ছাড়া বিসিসিআইও প্রায় ২০০ কোটি রুপির তাৎক্ষণিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
পাকিস্তানের এমন সিদ্ধান্তে আইসিসি জানায়, এটি বৈশ্বিক ক্রীড়া নীতির পরিপন্থি। পাকিস্তান যদি শেষ পর্যন্ত মাঠে না নামে, তবে কেবল ২ পয়েন্ট হারানোই নয়, বড় ধরনের আর্থিক ও কৌশলগত নিষেধাজ্ঞার মুখেও পড়তে পারে দেশটি। পাশাপাশি তারা আশা প্রকাশ করেছে যে পাকিস্তান খেলবে।