নেপালের পোখরার মনোরম পরিবেশে যেন আগ্নেয়গিরি হয়ে জ্বলে উঠল লাল-সবুজের মেয়েরা। অনূর্ধ্ব-১৯ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে ২-০ গোলে ধসিয়ে দিয়ে ফাইনালের সুবাস পেতে শুরু করেছে পিটার বাটলারের শিষ্যরা।
ম্যাচের শুরুটা ছিল ভারতের আগ্রাসনে ঠাসা। প্রথম ১০ মিনিটেই যেন প্রলয় ঘটাতে চেয়েছিল তারা। ৫ মিনিটে ভারতের ফরোয়ার্ডের বুলেট গতির শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়া আর ৬ মিনিটে পার্ল ফার্নান্দেজের হেড মিসের ঘটনাগুলো মনে করিয়ে দিচ্ছিল ম্যাচটা মোটেও সহজ হবে না। কিন্তু ইয়ারজান বেগমরা গোলপোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে ছিলেন হিমালয়ের মতোই অটল।
ধীরে ধীরে খেলার নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করে বাংলাদেশ। বিশেষ করে বাঁ দিক দিয়ে মামনি চাকমার ক্ষিপ্রতা ভারতীয় ডিফেন্সের ভিত নাড়িয়ে দিচ্ছিল। ২৯ মিনিটে ম্যাচের ডেডলক ভাঙেন অধিনায়ক অর্পিতা বিশ্বাস।
মামনির নেওয়া ফ্রি-কিক ভারতীয় গোলরক্ষকের গ্লাভস ফসকে বেরিয়ে এলে, চিল সজাগ দৃষ্টিতে থাকা অর্পিতা বল জালে জড়িয়ে উল্লাসে মাতান দলকে।
৩৭ মিনিটে কোচ পিটার বাটলারের দুটি পরিবর্তন (বন্যা খাতুন ও শান্তি মার্ডি) যেন ম্যাচের চিত্রনাট্য বদলে দেয়। এর ঠিক তিন মিনিট পরেই অর্থাৎ ৪০ মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ডান দিক থেকে তৃষ্ণা রানীর নিখুঁত এক ক্রসে আলতো ছোঁয়ায় বল জালে পাঠান আলপি আক্তার। ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।
দ্বিতীয়ার্ধে ভারত মরিয়া হয়ে গোল শোধের চেষ্টা করলেও বাংলাদেশের রক্ষণভাগে চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন জয়নব বিবিরা। উল্টো মুনকি আক্তাররা বেশ কয়েকবার পাল্টা আক্রমণে ভারতের বুকে কাঁপন ধরিয়েছেন। ৭০ মিনিটে জয়নব বিবির একটি দুর্দান্ত ক্লিয়ারেন্স ভারতের শেষ আশাটুকুও শেষ করে দেয়।
২ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট এবং +১৪ গোল ব্যবধান নিয়ে টেবিলের মগডালে এখন বাংলাদেশ। অন্যদিকে ভারত এক জয় নিয়ে পড়ে আছে দ্বিতীয় স্থানে। আজ নেপাল ও ভুটানের ম্যাচটি ড্র হলেই কোনো সমীকরণ ছাড়াই ফাইনাল নিশ্চিত হবে বাংলাদেশের।