মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:১৪ অপরাহ্ন

ইসরায়েল ট্রাম্পকে ইরানে আক্রমণের চাপ দিচ্ছে?

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে যেতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর ইসরায়েল ধারাবাহিকভাবে চাপ সৃষ্টি করছে- এমন অভিযোগ উঠে এসেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও গোয়েন্দা সূত্রের মূল্যায়নে। ইস্তাম্বুলে ইরান ইস্যুতে সম্ভাব্য আলোচনার প্রস্তুতির মধ্যেই এই চাপ আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প যতই ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত থাকছেন, ততই তার বিরুদ্ধে এপস্টাইন কেলেঙ্কারি সংক্রান্ত নতুন নতুন তথ্য ফাঁস হচ্ছে। একই সময়ে ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক সক্ষমতা পুনর্গঠন নিয়ে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা সতর্কতা জোরদার করা হচ্ছে।

এই ঘটনাপ্রবাহ আপাতদৃষ্টিতে পরস্পরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কি না- তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে আন্তর্জাতিক মহলে। কয়েকটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, তেল আবিব ট্রাম্পের বর্তমান অবস্থানকে তেহরানে শাসন পরিবর্তনের জন্য একটি ‘ঐতিহাসিক সুযোগ’ হিসেবে দেখছে।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয়বারের মতো হোয়াইট হাউসে ফেরার পর ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতি গ্রহণ করেন। তিনি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক মিলিশিয়াদের প্রতি সমর্থন বন্ধ না করলে সামরিক হামলার হুঁশিয়ারি দেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে ট্রাম্প ইরানে হামলা কররেও তা কয়েকদিন পর স্থগিত করেন, যাতে ইসরায়েল প্রস্তুতির জন্য আরও সময় পায়। একই সঙ্গে তিনি বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক জিহাদ নাউইর বলেন, ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক উত্তেজনা এড়িয়ে চলার ইঙ্গিত দেওয়ার পর থেকেই এপস্টাইন কেলেঙ্কারিতে তার সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তথ্য ফাঁস বেড়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালে ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন হামলা দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি মাত্র কয়েক মাস পিছিয়ে দিতে পেরেছিল, যদিও ট্রাম্প তা ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করার দাবি করেছিলেন।

নাউইরের মতে, এসব ঘটনা কাকতালীয় নয়; বরং একটি সূক্ষ্ম পরিকল্পনার অংশ। তার ভাষায়, ইসরায়েল অতীতের মতোই (২০১৮–২০২০ সালে পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহারের সময়ের মতো) ফাঁস হওয়া তথ্য ও নিরাপত্তা সতর্কতাকে চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

তিনি দাবি করেন, এসব ফাঁস- যার উৎস প্রায়শই ইসরায়েলি বা তাদের ঘনিষ্ঠ মহল- ট্রাম্পকে ইরানের সামনে দুর্বল হিসেবে উপস্থাপন করার উদ্দেশ্যে করা হয়। এর ফলে তার প্রশাসনের ভেতরে পিট হেগসেথ ও মাইক পম্পেওর মতো কট্টরপন্থীদের চাপ বাড়ে।

অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষক বুরহান বানি শেখ বলেন, এপস্টাইন কেলেঙ্কারিতে ট্রাম্পের জড়িত থাকার অভিযোগে নথিপত্রের ধারাবাহিক প্রকাশ কাকতালীয় বলে মনে হয় না। তার মতে, এটি ইসরায়েল বা তাদের মার্কিন মিত্রদের একটি সুপরিকল্পিত উদ্যোগ, যার লক্ষ্য ট্রাম্পের ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা।

বিশ্লেষক বেনি আলশেখের দাবি, ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে ইসরায়েলের গোয়েন্দা প্রতিবেদনগুলো এমন সময় প্রকাশ করা হয়, যখনই ট্রাম্প সামরিক পদক্ষেপে অনীহা দেখান। এতে করে ট্রাম্পকে অভ্যন্তরীণভাবে বিব্রত করা হয়, বিশেষ করে তার ধর্মপ্রচারক সমর্থকগোষ্ঠীর কাছে, যারা ইরানকে ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে।

এ প্রসঙ্গে আলশেখ ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ওয়াশিংটনে ইসরায়েলি গোয়েন্দা, সামরিক ও মোসাদ কর্মকর্তাদের একাধিক সফরের কথাও উল্লেখ করেন। এসব সফরে ইরানের সক্ষমতা ও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু সংক্রান্ত গোপন তথ্য মার্কিন প্রশাসনের কাছে তুলে ধরা হয়।

বিশ্লেষকদের সার্বিক মূল্যায়নে বলা হচ্ছে, ট্রাম্পের এপস্টাইন কেলেঙ্কারি এবং ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে সতর্কবার্তাগুলো একটি সমন্বিত ইসরায়েলি প্রচারণার অংশ হতে পারে। উদ্দেশ্য—ট্রাম্প যখনই সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগেন, তখনই তাকে ইরানে সামরিক হামলার পথে ঠেলে দেওয়া।

আগামী দিনগুলোতে স্পষ্ট হবে, এই চাপ ও ফাঁস কতটা সফলভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে নতুন সংঘাতে জড়াতে পারে, নাকি ট্রাম্প চাপ উপেক্ষা করে কূটনৈতিক সমাধানের পথেই অগ্রসর হন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102