বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:৩২ পূর্বাহ্ন

পুরুষদের দৃষ্টি আকর্ষণে বিড়াল বেশি মিউ ডাকে?

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

বিড়ালদের নিয়ে প্রচলিত একটি ধারণা হলো- তারা নাকি একা থাকতে ভালোবাসে, খুব একটা আবেগ প্রকাশ করে না। কিন্তু সাম্প্রতিক এক গবেষণা সেই ধারণায় নতুন প্রশ্ন উঠেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, বিড়ালরা তাদের নারী মালিকদের তুলনায় পুরুষ মালিকদের প্রতি বেশি কণ্ঠে- অর্থাৎ বেশি মিউ করে- অভিবাদন জানায়।

তুরস্কের বিলকেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা পরিচালিত এই গবেষণাটি ১৪ নভেম্বর প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ইথোলজি-তে। গবেষনাটি ইঙ্গিত দিচ্ছে, মানুষ ও বিড়ালের সম্পর্ক যতটা সরল মনে হয়, বাস্তবে তা তার চেয়েও অনেক বেশি জটিল ও কৌশলী।

গবেষণায় অংশ নেন ৪০ জন বিড়াল মালিক। তাদের শরীরে ছোট ক্যামেরা লাগিয়ে ঘরে ফেরার পর বিড়ালের সঙ্গে প্রথম ১০০ সেকেন্ডের স্বাভাবিক মিথস্ক্রিয়া ধারণ করতে বলা হয়। পরে বিভিন্ন কারণে ৯ জনের তথ্য বাদ দিয়ে বাকি ৩১ জনের ভিডিও বিশ্লেষণ করা হয়।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঘরে ফিরে মালিককে স্বাগত জানানোর সময় বিড়ালরা নারীদের তুলনায় পুরুষদের প্রতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি মিউ ডাকে।

গবেষকরা জানান, মালিকের বয়স, বিড়ালের লিঙ্গ, এমনকি বাসায় বিড়ালের সংখ্যা- এসবের কোনোটি বিড়ালের কণ্ঠস্বরের ওপর তেমন প্রভাব ফেলেনি। একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল মালিকের লিঙ্গ।

গবেষকদের ধারণা, এর পেছনে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কারণ থাকতে পারে। সাধারণত নারীরা বিড়ালের সঙ্গে বেশি কথা বলেন এবং তাদের প্রয়োজন সহজেই বুঝে ফেলেন। অন্যদিকে, পুরুষদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে বিড়ালদের হয়তো একটু বেশি ‘কণ্ঠশ্রম’ করতে হয়।

গবেষণা দলের প্রধান কান কেরমান বলেন, ‘এটি প্রমাণ করে যে বিড়ালরা যান্ত্রিক বা স্বয়ংক্রিয় প্রাণী নয়। তারা মানুষকে আলাদা আলাদাভাবে চিনতে পারে এবং সেই অনুযায়ী আচরণ পরিবর্তন করে।’

গবেষণাটি তুরস্কে পরিচালিত হওয়ায় গবেষকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন- এই ফলাফল সব দেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নাও হতে পারে। বিভিন্ন সংস্কৃতিতে মানুষ যেভাবে বিড়ালের সঙ্গে কথা বলে বা আচরণ করে, তা বিড়ালের প্রতিক্রিয়াতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

গবেষকরা মনে করেন, ভবিষ্যতে ভিন্ন ভিন্ন দেশের ও সংস্কৃতির ওপর একই ধরনের গবেষণা হলে বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে বোঝা যাবে।

সুইজারল্যান্ডের প্রাণী আচরণ বিশেষজ্ঞ ডেনিস টার্নার, যিনি এই গবেষণায় যুক্ত ছিলেন না, বলেন, বিড়ালদের পুরুষ বা নারীর প্রতি বিশেষ কোনো পক্ষপাত নেই। বরং পুরুষদের দিকে বেশি মিউ করা তাদের সামাজিক বুদ্ধিমত্তা ও অভিযোজন ক্ষমতারই প্রমাণ।

তার ভাষায়, ‘বিড়ালরা পরিস্থিতি বুঝে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে। এটাই তাদের বিশেষত্ব।’

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102