কিশোর ব্যবহারকারীদের জন্য এআই চরিত্র ব্যবহারের সুবিধা সাময়িকভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেটা। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামসহ মেটার সব অ্যাপে এটি কার্যকর হবে। নতুন ও নিরাপদ এআই অভিজ্ঞতা তৈরি না হওয়া পর্যন্ত এই সুবিধা ব্যবহার করা যাবে না বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
মেটা প্ল্যাটফর্মস জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে কিশোরদের জন্য বিদ্যমান এআই চরিত্রগুলোর ব্যবহার স্থগিত করা হচ্ছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
মেটা একটি ব্লগ পোস্টে জানায়, কিশোরদের জন্য আলাদা ও হালনাগাদ এআই অভিজ্ঞতা তৈরির কাজ চলছে। শিশু ও কিশোরদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ। নতুন সংস্করণ চালু হলে সেখানে অভিভাবক নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকবে, অর্থাৎ অভিভাবকরা চাইলে সন্তানের এআই ব্যবহারে সীমা নির্ধারণ করতে পারবেন। তবে এটি ঠিক কবে চালু হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময় বলা হয়নি।
গত অক্টোবর মেটা প্রথমবারের মতো অভিভাবক নিয়ন্ত্রণ ফিচারের ঝলক দেখিয়েছিল। এতে কিশোরদের এআই চরিত্রের সঙ্গে ব্যক্তিগত চ্যাট বন্ধ করার সুযোগ অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই উদ্যোগ এসেছে মেটার ‘ফ্লার্টি’ বা অতিরিক্ত বন্ধুত্বপূর্ণ চ্যাটবট আচরণ নিয়ে সমালোচনার পর। তবে এখনও এই ফিচার আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়নি।
মেটা আগেই জানিয়েছিল, কিশোরদের জন্য এআই অভিজ্ঞতা তৈরি হবে পিজি–১৩ চলচ্চিত্র রেটিং অনুসরণ করে। এর মাধ্যমে ১৩ বছরের কম বয়সীদের জন্য অনুপযুক্ত বিষয় এড়িয়ে চলে এবং কিশোরদের সংবেদনশীল বা অনুপযুক্ত কনটেন্ট থেকে দূরে রাখা হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারি বেড়েছে। বিশেষ করে চ্যাটবটের সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে। গত আগস্টে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মেটার কিছু এআই নীতিমালার কারণে কিশোরদের সঙ্গে অনুপযুক্ত কথোপকথনের সুযোগ তৈরি হয়েছিল।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কিশোরদের জন্য এআই চরিত্র ব্যবহারে বিরতি দেওয়া মেটার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এতে নিরাপত্তা ঝুঁকি কমবে এবং অভিভাবক ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার উদ্বেগ প্রশমিত হবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে কিশোরদের জন্য নিরাপদ ও কার্যকর এআই অভিজ্ঞতা কীভাবে তৈরি হবে তা এখন সবার নজরে।
মেটার এই সিদ্ধান্ত দেখায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশু ও কিশোরদের সুরক্ষা এখন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অগ্রাধিকার হয়ে উঠছে। ভবিষ্যতে এআইভিত্তিক ফিচার চালুর আগে নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও জোরদার হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।