মহাকাশে বাড়তে থাকা নিরাপত্তা ঝুঁকি ও নিম্ন পৃথিবী কক্ষপথে স্যাটেলাইটের চাপ দিন দিন বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা জোরদার করতে স্যাটেলাইটের কক্ষপথ নিচে নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্টারলিংক। পুরো প্রক্রিয়া ২০২৬ সালের মধ্যেই সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্টারলিংক প্রকৌশল বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইকেল নিকলস বলেন, বর্তমানে প্রায় ৫৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় অবস্থান করা স্যাটেলাইটগুলোকে নামিয়ে আনতে চাওয়া হচ্ছে ৪৮০ কিলোমিটার কক্ষপথে। এই পরিকল্পনার আওতায় প্রায় ৪ হাজার ৪০০ স্যাটেলাইট স্থানান্তর করা হবে, যা স্টারলিংকের মোট সক্রিয় স্যাটেলাইটের প্রায় অর্ধেক।
তিনি বলেন, সূর্যের কার্যক্রম যখন ন্যূনতম পর্যায়ে থাকে, তখন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ঘনত্ব কমে যায়। ফলে অকেজো স্যাটেলাইট দীর্ঘ সময় কক্ষপথে থেকে গিয়ে ঝুঁকি বাড়ায়। কক্ষপথ নিচে নামানো হলে এই ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং কোনো স্যাটেলাইট অকার্যকর হলে সেটি কয়েক মাসের মধ্যেই বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে ধ্বংস হয়ে যাবে যেখানে আগে সময় লাগত চার বছরেরও বেশি।
নিকলস বলেন, ৫০০ কিলোমিটারের নিচের কক্ষপথে তুলনামূলকভাবে কম ধ্বংসাবশেষ ও কম পরিকল্পিত স্যাটেলাইট রয়েছে, যা সংঘর্ষের সম্ভাবনাও হ্রাস করবে। পুরো স্থানান্তর প্রক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস কমান্ড, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং অন্যান্য স্যাটেলাইট অপারেটরের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
এদিকে, নিম্ন পৃথিবী কক্ষপথে স্যাটেলাইট প্রতিযোগিতা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। স্টারলিংকের পাশাপাশি অ্যামাজনের প্রজেক্ট কুইপার তিন হাজারের বেশি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। অন্যদিকে চীন নিজস্ব স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবার জন্য ১০ হাজারেরও বেশি স্যাটেলাইট কক্ষপথে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে।
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, এভাবে স্যাটেলাইটের সংখ্যা অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়তে থাকলে সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়বে এবং একসময় ‘কেসলার সিনড্রোম’ দেখা দিতে পারে। এতে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ সৃষ্টি হয়ে নির্দিষ্ট কক্ষপথগুলো ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ার শঙ্কা তৈরি হবে। এই বাস্তবতায় মহাকাশ নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও কার্যকর নীতিমালা ও সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা জোরালো হয়ে উঠছে।
সূত্র: দ্য রেজিস্টার