প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে সাম্প্রতিক অগ্নিসংযোগকে দেশের দেড়শত বছরের সাংবাদিকতার ইতিহাসে ‘প্রথম ঘটনা’ হিসেবে দাবি করা হলেও বাস্তবতা ভিন্ন। এর এক দশক আগেই ২০১৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার হোটেল ইডেন কম্প্লেক্সে অবস্থিত দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকার অফিস ও প্রেসে ভয়াবহ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে—যার প্রত্যক্ষ প্রমাণ আজও সংরক্ষিত আছে।
সম্প্রতি প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে দাবি করা হচ্ছে—বাংলাদেশের দেড়শত বছরের সাংবাদিকতার ইতিহাসে এটিই নাকি প্রথম কোনো পত্রিকা অফিসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা। তবে অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, এই দাবি তথ্যগতভাবে ভুল এবং বিভ্রান্তিকর।
এর আগে ২০১৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার হোটেল ইডেন কম্প্লেক্সে অবস্থিত দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকার প্রধান কার্যালয় ও প্রেসে সংঘটিত হয় ভয়াবহ অগ্নিসংযোগ। ঐ দিন বেলা আনুমানিক ২টা ১৩ মিনিটে আগুনে পুড়ে যায় পত্রিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ, বিপুল পরিমাণ কাগজের রোল এবং ছাপাখানার সরঞ্জাম।
সেই সময়ের তোলা স্থিরচিত্রে দেখা যায়, নয়া দিগন্তের তৎকালীন নির্বাহী সম্পাদক সালাহউদ্দিন বাবর ও বার্তা সম্পাদক আযম মীরের নেতৃত্বে পত্রিকার কর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন। অন্য একটি ছবিতে দেখা যায়, দিগন্ত প্রেস থেকে অগ্নিদগ্ধ কাগজের রোল বের করে আনা হচ্ছে—যা ওই ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য হিসেবে আজও বিদ্যমান।
তুলনামূলক প্রেক্ষাপট
বিষয় : নয়া দিগন্ত,প্রথম আলো / ডেইলি স্টার
ঘটনার বছর : ২০১৩
সাম্প্রতিক স্থান : হোটেল ইডেন কম্প্লেক্স, ঢাকা
নিজ নিজ কার্যালয়
ক্ষয়ক্ষতি : অফিস ও প্রেসে অগ্নিসংযোগ, কাগজ ও যন্ত্রপাতি পুড়ে যায়
অফিসে অগ্নিসংযোগ
প্রত্যক্ষ প্রমাণ : ছবি, প্রত্যক্ষদর্শী, সংবাদ আর্কাইভ
চলমান অনুসন্ধান
ঐতিহাসিক গুরুত্ব
বাংলাদেশের প্রথম বড় পরিসরের মিডিয়া অফিস অগ্নিসংযোগের অন্যতম ঘটনা
ধারাবাহিক সহিংসতার নতুন সংযোজন
ইতিহাস উপেক্ষার ঝুঁকি:
গণমাধ্যম বিশ্লেষকদের মতে, কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার গুরুত্ব তুলে ধরতে গিয়ে অতীতের ঘটনাকে অস্বীকার করা শুধু ইতিহাস বিকৃতি নয়, বরং গণমাধ্যমের প্রতি দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণও বটে। নয়া দিগন্তে অগ্নিসংযোগের ঘটনাটি দেশের সংবাদমাধ্যমের ওপর সংঘটিত সহিংসতার একটি বড় উদাহরণ, যা আজ নতুন করে আলোচনায় আসা প্রয়োজন।
গণমাধ্যমে হামলা : গণতন্ত্রের জন্য হুমকি
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোন গণমাধ্যমের আদর্শ, অবস্থান বা সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে দ্বিমত থাকতেই পারে। কিন্তু তার জবাবে হামলা, ভাঙচুর বা অগ্নিসংযোগ কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এ ধরনের ঘটনা সরাসরি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর আঘাত।
প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের অগ্নিসংযোগের ঘটনা নিঃসন্দেহে নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক। তবে এটিকে ‘ইতিহাসের প্রথম ঘটনা’ বলে প্রচার করা সত্য নয়। ২০১৩ সালে নয়া দিগন্ত পত্রিকার অফিস ও প্রেসে সংঘটিত অগ্নিসংযোগ তার স্পষ্ট প্রমাণ। গণমাধ্যমের ইতিহাস মূল্যায়নে আবেগ নয়, প্রয়োজন নির্ভুল তথ্য ও ন্যায্য স্বীকৃতি।