শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:৫২ পূর্বাহ্ন

এপস্টেইনের নতুন ১৯ ছবি প্রকাশ, আছেন ট্রাম্প ও বিল ক্লিনটন

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫

কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক প্রয়াত জেফরি এপস্টেইনের বাড়ি থেকে পাওয়া আরও ১৯টি ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) প্রকাশিত ছবিগুলোর মধ্যে তিনটি ছবিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেখা গেছে।

যৌন অপরাধে দণ্ডিত এপস্টেইন সংশ্লিষ্ট নথিপত্র প্রকাশের নির্ধারিত সময়সীমা ঘনিয়ে আসার মধ্যে হাউস ওভার সাইট কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্যরা নতুন এই ১৯ ছবি প্রকাশ করলেন। কমিটির এই সদস্যরা বলেন, তাঁরা এপস্টেইনের বাড়ি (স্টেট) থেকে পাওয়া ৯৫ হাজারের বেশি ছবি পর্যবেক্ষণ করছেন।

এপস্টেইনের সঙ্গে ট্রাম্পের প্রকাশিত নতুন ছবিগুলোর একটি সাদা-কালো। তাতে দেখা যায়, ট্রাম্প বেশ কয়েকজন নারীর সঙ্গে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে আছেন। ট্রাম্পের দুই পাশে সারি করে দাঁড়িয়ে থাকা ওই নারীদের মুখ আড়াল করা।

দ্বিতীয় ছবিতে দেখা যায়, ট্রাম্প এপস্টেইনের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। তৃতীয় ছবিতে একজন নারীর পাশে ট্রাম্পকে বসে থাকতে দেখা যায়। ছবিটি বেশ ঝাপসা আর নারীর মুখ আড়াল করা। ছবিতে ট্রাম্পের লাল টাই গলার সঙ্গে ঢিলেঢালা অবস্থায় ঝুলে রয়েছে।কয়েক মাস ধরে এপস্টেইন কেলেঙ্কারি ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিক মাথাব্যথার কারণ হয়ে আছে। জটিল এ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার একটি কারণ ট্রাম্প নিজে। তিনিই একসময় এপস্টেইনকে নিয়ে ষড়যন্ত্রতত্ত্বগুলো সমর্থকদের মধ্যে প্রচার করেছিলেন।

ছবিগুলো কবে ও কোথায় তোলা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।

নতুন ছবির বিষয়ে শুক্রবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, সবাই এই ব্যক্তিকে চেনেন। পাম বিচের সব জায়গায় তাঁর বিচরণ ছিল। সবার সঙ্গে তাঁর ছবি আছে। বলতে গেলে, সেখানে প্রায় শত শত মানুষের সঙ্গে তাঁর ছবি আছে। তাই এটা কোনো বড় বিষয় নয়।হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যাবিগেইল জ্যাকসন বলেন, যাঁরা এপস্টেইনের শিকার হয়েছেন, তাঁদের জন্য ডেমোক্র্যাটরা এখন পর্যন্ত যা করেছেন, এর চেয়ে অনেক বেশি করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

তিনি আরও বলেন, ‘সংবাদমাধ্যমে শুধু ডেমোক্র্যাটদের বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি বন্ধের সময় হয়েছে। বরং ডেমোক্র্যাটদের প্রশ্ন করা শুরু করুন—এপস্টেইন দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরও কেন তাঁর সঙ্গে তাঁরা সময় কাটাতে চাইতেন।’

এখন অনেক ট্রাম্প–সমর্থক বিশ্বাস করেন, তাঁর প্রশাসনের কর্মকর্তারা এপস্টেইনের সঙ্গে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সম্পর্ক আড়াল করছেন এবং ম্যানহাটানের একটি কারাগারে তাঁর মৃত্যুকে ঘিরে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ করছেন না।

২০১৯ সালে কারাগারের একটি কক্ষ থেকে এপস্টেইনের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে বলা হয়, তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

গত জুলাই মাসে মার্কিন বিচার বিভাগ বলেছে, এপস্টেইনের ঘটনায় কোনো তৃতীয় পক্ষ জড়িত থাকা নিয়ে তদন্ত শুরু করার মতো যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বিচার বিভাগ থেকে আরও বলা হয়, ‘ক্লায়েন্ট’–এর কোনো তালিকা কিংবা যৌনকর্মের জন্য নারীদের পাচারে জড়িত থাকতে পারেন—এমন কোনো ব্যক্তির নাম তারা খুঁজে পায়নি। এপস্টেইন কাউকে ‘ব্ল্যাকমেল’ করেছেন—এমন প্রমাণও তারা পায়নি।

গত শতকের নব্বইয়ের দশক থেকে এ শতাব্দীর প্রথম কয়েক বছর এপস্টেইনের সঙ্গে ট্রাম্পের বন্ধুত্ব ছিল। ট্রাম্প দাবি করেন, শিশু যৌন নিপীড়নের অপরাধে এপস্টেইন দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগেই তাঁদের ওই বন্ধুত্ব ছিন্ন হয়।

এপস্টেইনের যৌন নিপীড়ন ও যৌনকর্মী হিসেবে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের পাচার করা নিয়ে তিনি কিছু জানতেন না বলেও ট্রাম্প বারবার দাবি করেন।

নতুন প্রকাশিত ছবিতে সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, ট্রাম্পের সাবেক সহকারী স্টিভ ব্যানন, একসময়ের শীর্ষ ধনী বিল গেটস, সাবেক অর্থমন্ত্রী ল্যারি সামার্সকেও দেখা গেছে।

ডেমোক্র্যাটরা বলেছেন, তাঁরা যে হাজার হাজার ছবি পর্যবেক্ষণ করছেন, সেগুলোতে সম্পদশালী ও প্রভাবশালী পুরুষদের ছবিও রয়েছে, যাঁরা জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন। এ ছাড়া নারীদের ও এপস্টেইনের বিভিন্ন সম্পদের ছবি রয়েছে। সামনে আরও ছবি প্রকাশ করা হবে।এ ছাড়া কয়েক ধরনের যৌন খেলনা ও সাড়ে চার ডলারের ‘ট্রাম্প কনডম’ দেখা গেছে।

ডেমোক্র্যাটরা বলেছেন, তাঁরা যে হাজার হাজার ছবি পর্যবেক্ষণ করছেন, সেগুলোতে সম্পদশালী ও প্রভাবশালী পুরুষদের ছবিও রয়েছে, যাঁরা জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন। এ ছাড়া নারীদের ও এপস্টেইনের বিভিন্ন সম্পদের ছবি রয়েছে। সামনে আরও ছবি প্রকাশ করা হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102