পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় গাজায় শিশুসহ অন্তত ৬৮ জন নিহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দক্ষিণ গাজার রাফায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় আটজন চিকিৎসক, পাঁচজন বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্মী এবং জাতিসংঘের একজন কর্মী নিহত হয়েছেন। প্যালেস্টাইন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (পিআরসিএস) তাদের মরদেহ উদ্ধার করেছে।
এই বর্বর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ (আইএফআরসি)। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘এটি একটি বিধ্বংসী ঘটনা। ২০১৭ সালের পর থেকে বিশ্বের যেকোনো স্থানে আমাদের কর্মীদের ওপর এটি সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা।’
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৫০,২৭৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১,১৪,০৯৫ জন আহত হয়েছেন।
তবে গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, বাস্তব সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। তাদের সর্বশেষ হালনাগাদ করা তথ্যমতে, গাজায় নিহতের সংখ্যা প্রায় ৬১,৭০০ জনে পৌঁছেছে। হাজারো মানুষ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে, যাদের বেশিরভাগই নিহত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গাজায় চলমান ইসরায়েলি হামলায় হাসপাতাল, বিদ্যালয়, শরণার্থী শিবির এবং বেসামরিক স্থাপনাগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো একে যুদ্ধাপরাধ বলে অভিহিত করছে এবং অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানাচ্ছে।
জাতিসংঘ, মানবাধিকার সংস্থা এবং বিভিন্ন দেশ এই সহিংসতার নিন্দা জানালেও ইসরায়েল তাদের অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই সংঘাতের ফলে গাজার মানবিক পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেবে।
গাজায় চলমান সহিংসতা ও প্রাণহানি বিশ্বব্যাপী ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ঈদের দিনেও রক্তপাত বন্ধ হয়নি, যা যুদ্ধের নির্মম বাস্তবতাকে আরও প্রকট করেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তৎপরতা এবং মানবিক সহায়তা উদ্যোগ আরও জোরদার না হলে, গাজার জনগণের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।