রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০০ অপরাহ্ন

চাঁদপুরে শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও ক্লাস বর্জন

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

চাঁদপুরের কচুয়ায় তুলপাই দারাশাহী উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মো. নাছির আহমেদ গাজীর বিরুদ্ধে নারী শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানি ও মানসিক নিপীড়নের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে ওই শিক্ষককে বিদ্যালয় থেকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা সব ধরনের শ্রেণি কার্যক্রম বর্জন করেন।

সকালে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দারাশাহী তুলপাই বাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বিক্ষোভ মিছিল শেষে বিদ্যালয় মাঠে অবস্থান নেন। এ সময় তারা অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং দ্রুত বিচার দাবি করে তিন দফা দাবি পেশ করেন, শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন নিপীড়নের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। অপরাধ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত শিক্ষককে কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তদন্ত চলাকালীন বা অভিযোগ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত শিক্ষক নাছির আহমেদ গাজীকে বিদ্যালয়ের সব ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত রাখতে হবে।

মানববন্ধনে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাহাত পাটোয়ারি ও মেহেদি হাসান বলেন, শিক্ষার্থীরা সব ধরনের যৌন সহিংসতা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে বিশ্বাসী। এর আগেও আমরা প্রধান শিক্ষকের কাছে কয়েকবার অভিযোগ জানিয়েছি। কিন্তু সুষ্ঠু বিচার না পাওয়ায় আমরা বাধ্য হয়ে ক্লাস বর্জন করেছি।

সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী হালিমা আক্তার ও রাখি রাণী অভিযোগ করে বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক নাছির আহমেদ গাজী আমাদের সঙ্গে নানাভাবে খারাপ আচরণ করেন এবং মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন। আমরা তার পদত্যাগ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য জুয়েল পাটোয়ারি জানান, বিগত দিনগুলোতেও তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অনেক অভিযোগ পেয়েছি। এর আগেও কয়েকবার শালিসের মাধ্যমে তাকে সতর্ক করা হলেও তিনি সংশোধন হননি।

ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থীর চাচা মো. জাকির হোসেন বলেন, আমার ভাতিজির সঙ্গে ওই শিক্ষক খারাপ আচরণ করার পর আমি তাকে কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করে বলেন আমার কেউ কিচ্ছু করতে পারবে না।

সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. নাছির আহমেদ গাজী মুঠোফোনে দাবি করেন, আমার বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পরিকল্পিত।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জহিরুল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার কয়েকজন শিক্ষার্থী আমাকে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানিয়েছিল। আজ হঠাৎ শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ শুরু করে। আমি বিষয়টি নিয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করছি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলী আশ্রাফ খান এ বিষয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও ক্লাস বর্জনের খবর পেয়ে আমি দ্রুত বিদ্যালয়ে যাই। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের ক্লাসে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে প্রচলিত আইন অনুযায়ী অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102