‘জ্বালানি রূপান্তর নিশ্চিত করি, নির্মল বায়ুর ভবিষ্যৎ গড়ি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাগেরহাটে আন্তর্জাতিক নির্মল বায়ু ও নীল আকাশ দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আলোচনা সভা, শপথ পাঠ ও বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় বাগেরহাট সদর উপজেলার কে. জে. এস. পি. ইউ. রাজাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (JETNET-BD), অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ ও ইনিশিয়েটিভ ফর রাইট ভিউ (IRV)-এর যৌথ উদ্যোগে কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বিদ্যালয়ের হলরুমে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বায়ুদূষণের কারণ ও ক্ষতিকর প্রভাব, পরিবেশ রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
আলোচনা সভায় পরিবেশ সুরক্ষা নাগরিক কমিটি, বাগেরহাটের সভাপতি মোল্লা নজরুল ইসলাম বলেন,নির্মল বায়ু মানুষের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার অন্যতম শর্ত। বায়ুদূষণ কমাতে শুধু সরকারের উদ্যোগের দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না। প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে পরিবেশ রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। শিক্ষার্থীরা এ বিষয়ে সচেতন হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আরও নিরাপদ পরিবেশ পাবে।
পরিবেশ সুরক্ষা নাগরিক কমিটির সহ-সভাপতি মোল্লা মনিরুজ্জামান বলেন,পরিবেশ রক্ষার জন্য বৃক্ষরোপণ, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে। তাই ছোটবেলা থেকেই তাদের মধ্যে পরিবেশের প্রতি দায়িত্ববোধ তৈরি করা জরুরি।
ইনিশিয়েটিভ ফর রাইট ভিউ (IRV)-এর ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর হাসান মাহমুদ জসীম বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু চারা বিতরণ করলেই হবে না, গাছগুলো যেন তারা নিজের সন্তানের মতো পরিচর্যা করে বড় করে তোলে, সেই দায়িত্ববোধও তৈরি করতে হবে। একটি শিক্ষার্থী একটি গাছের দায়িত্ব নিলে অল্প সময়ের মধ্যেই একটি বিদ্যালয় ও তার আশপাশ সবুজ হয়ে উঠতে পারে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা তৈরি করতে বিদ্যালয়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে তারা বায়ুদূষণের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জানতে পারছে এবং পরিবেশ রক্ষায় নিজেদের দায়িত্ব বুঝতে পারছে। আমরা চাই, শিক্ষার্থীরা এখান থেকে পাওয়া শিক্ষা নিজেদের পরিবার ও সমাজেও ছড়িয়ে দিক।
শিক্ষার্থী সজীব শেখ বলেন, আজকের অনুষ্ঠানে এসে বায়ুদূষণ আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য কতটা ক্ষতিকর, সে বিষয়ে অনেক কিছু জানতে পেরেছি। আমরা শুধু নিজেরা সচেতন থাকব না, পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদেরও পরিবেশ দূষণ না করার বিষয়ে সচেতন করব। যে গাছের চারা পেয়েছি, সেটি যত্ন করে বড় করার চেষ্টা করব।
আরেক শিক্ষার্থী ঐশী বলেন, আগে গাছ লাগানোকে শুধু ভালো কাজ হিসেবে দেখতাম। আজ বুঝতে পেরেছি, গাছ আমাদের নির্মল বাতাস দেয় এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। আমরা চাই আমাদের বিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকা আরও সবুজ হোক। তাই নিজেরা গাছ লাগানোর পাশাপাশি অন্যদেরও গাছ লাগাতে উৎসাহিত করব।
আলোচনা সভা শেষে বিদ্যালয় মাঠে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়। বিতরণ করা চারার মধ্যে ছিল কদবেল, পেয়ারা, আমলকী, চালতাসহ বিভিন্ন ফলজ গাছ। পরে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আন্তর্জাতিক নির্মল বায়ু ও নীল আকাশ দিবসের শপথ পাঠ করানো হয়। এ সময় বায়ুদূষণ কমানো, পরিবেশ রক্ষা, বৃক্ষরোপণ এবং সবুজ ও টেকসই পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন শিক্ষার্থীরা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ সুরক্ষা নাগরিক কমিটি বাগেরহাটের সভাপতি মোল্লা নজরুল ইসলাম, সহ-সভাপতি মোল্লা মনিরুজ্জামান ও কার্যকরী সদস্য শেখ আব্দুল গণি। এছাড়া বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান, সহকারী শিক্ষক সুজিত দাস, কার্তিক চন্দ্র দাস ও সাহানারা ইয়াসমিন মুন্নি এবং ইনিশিয়েটিভ ফর রাইট ভিউ (IRV)-এর ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর হাসান মাহমুদ জসীমসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, নির্মল বায়ু ও সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তি, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। পরিবেশ রক্ষায় ছোট ছোট উদ্যোগই ভবিষ্যতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।