এছাড়াও, আদালত ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ (এএসআই) কর্তৃক ২০০৩ সালে জারি করা একটি আদেশের কিছু অংশ বাতিল করেছে। ওই আদেশ অনুযায়ী, হিন্দুদের মঙ্গলবারে পূজা করার এবং মুসলিমদের কমপ্লেক্সের কামাল মাওলা মসজিদ অংশে শুক্রবারে নামাজ পড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
মসজিদের জন্য বিকল্প জমির পরামর্শ আদালতের
ভোজশালাকে মন্দির হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও হাইকোর্ট জানিয়েছে, মুসলিম সম্প্রদায় একটি মসজিদ নির্মাণের জন্য ধার জেলায় আলাদা জমি বরাদ্দের দাবিতে রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন করতে পারে।
আদালত বলেছে, “মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অধিকার রক্ষা করতে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে সম্পূর্ণ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য, রাজ্য সরকার একটি মসজিদ নির্মাণের জন্য ধার জেলায় উপযুক্ত এবং স্থায়ী জমি বরাদ্দের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।”
বেঞ্চ এএসআই-কে এই সংরক্ষিত স্মৃতিস্তম্ভের রক্ষণাবেক্ষণ ও সংরক্ষণের তদারকি চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। একই সাথে, বর্তমানে লন্ডনের একটি মিউজিয়ামে রয়েছে বলে বিশ্বাস করা দেবী সরস্বতীর মূর্তিটি ফিরিয়ে আনার আবেদনগুলো বিবেচনা করার জন্য কেন্দ্র সরকারকে অনুরোধ করেছে।
আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, “ভারত সরকার লন্ডনের মিউজিয়াম থেকে দেবী সরস্বতীর প্রতিমা ফিরিয়ে এনে এই কমপ্লেক্সের ভেতরে পুনরায় স্থাপনের আবেদনগুলো বিবেচনা করতে পারে।”
সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতি মুসলিম পক্ষের
মুসলিম পক্ষ এই রায়ের তীব্র বিরোধিতা করেছে এবং ভারতের সুপ্রিম কোর্টে এটিকে চ্যালেঞ্জ করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।
ধারের শহর কাজী ওয়াকার সাদিক বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তা আমরা পর্যালোচনা করব। আমরা এই রায়কে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করব।”
মুসলিম পক্ষের প্রতিনিধিত্বকারী আইনজীবী আশহার ওয়ার্সি অভিযোগ করেছেন যে, এএসআই-এর সমীক্ষা প্রতিবেদনটি পক্ষপাতদুষ্ট ছিল এবং তাদের দেওয়া বেশ কয়েকটি নথি উপেক্ষা করা হয়েছে।
ওয়ার্সি বলেন, “আমরা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে যাচ্ছি। আমাদের দেওয়া সরকারি নথিগুলো আদালত বিবেচনা করেনি। জরিপের সময় এএসআই আমাদের দাবিগুলো আমলে নেয়নি।”
তিনি আরও দাবি করেন যে, সেখানে শতাব্দী ধরে নামাজ পড়া হচ্ছিল এবং ২০০৩ সালের ব্যবস্থাটি বিদ্যমান প্রার্থনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য ছিল, কোনো নতুন নিয়ম চালু করার জন্য নয়।
বাবরি মসজিদ রায়ের সাথে তুলনা ওয়াইসির
অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমীন (এআইএমআইএম)-এর সভাপতি আসাদুদ্দিন ওয়াইসি এই রায়ের সমালোচনা করেছেন এবং এটিকে বাবরি মসজিদ রায়ের সাথে তুলনা করেছেন।
ওয়াইসি এক্স (টুইটার)-এ লিখেছেন, “আমরা আশা করি সুপ্রিম কোর্ট এটি সংশোধন করবে এবং এই আদেশটি বাতিল করবে। বাবরি মসজিদ রায়ের সাথে এর স্পষ্ট মিল রয়েছে।”
ভোজশালা বিতর্কটি কয়েক দশক ধরে মধ্য ভারতের অন্যতম সংবেদনশীল ধর্মীয় ও আইনি লড়াই হয়ে রয়েছে। হিন্দুরা এই স্থানটিকে রাজা ভোজের শাসনামলে নির্মিত একটি প্রাচীন সরস্বতী মন্দির মনে করেন, অন্যদিকে মুসলিমরা এটিকে কামাল মাওলা মসজিদ হিসেবে গণ্য করেন।
২০২৪ সালে পরিচালিত এএসআই-এর একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ বৈজ্ঞানিক জরিপ এবং কয়েক মাসের শুনানির পর হাইকোর্টের এই রায় এলো। এএসআই তাদের প্রতিবেদনে দাবি করেছিল যে, মসজিদ কাঠামোটি নির্মাণের আগে সেখানে একটি বিশাল মন্দির-সদৃশ কাঠামো বিদ্যমান ছিল।