আসন্ন ঈদুল আজহার আগেই নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে আন্দোলনে সরব হয়ে উঠেছেন দেশের সরকারি শিক্ষক ও কর্মচারীরা। দীর্ঘদিন ধরে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের আশ্বাস মিললেও কার্যকর কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় তাদের মধ্যে বাড়ছে হতাশা ও ক্ষোভ। ক্রমাগত বেড়ে চলা জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে অনেকেই চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
নতুন পে-স্কেল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে ব্যাপক আলোচনা। কেউ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি তুলছেন, আবার কেউ সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ঘোষণা চাচ্ছেন। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন জায়গায় পে-স্কেল বাস্তবায়ন দাবির পক্ষে কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। পাশাপাশি আগামী ১৬ মে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সবাবেশের ডাক দিয়েছে সরকারি শিক্ষক ও কর্মচারীরা।
আন্দোলনরত শিক্ষক ও কর্মচারীদের ভাষ্য, নবম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন দ্রুত জারি না হলে তাদের আর্থিক দুর্ভোগ আরও বাড়বে।
তাদের দাবি, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় সরকারি ও বেসরকারি—উভয় খাতের কর্মচারীদের জন্য একটি যুগোপযোগী ও বাস্তবসম্মত বেতন কাঠামো এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি।
এদিকে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার প্রাথমিক পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে পে-কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী পুরোপুরি বেতন বৃদ্ধি না করে ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়নের চিন্তা করছে সরকার।
প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন পে-স্কেল তিন ধাপে কার্যকর করা হতে পারে। প্রথম ধাপে আগামী অর্থবছরে মূল বেতনের প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও পে-কমিশন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করেছিল, সরকারের বিবেচনায় তা কমিয়ে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখা হতে পারে। পরবর্তী অর্থবছরগুলোতে ধাপে ধাপে বাকি সুবিধা ও নতুন ভাতাগুলো যুক্ত করা হবে।
সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ২৩ সদস্যের পে-কমিশন গত ২১ জানুয়ারি সরকারের কাছে তাদের সুপারিশমালা জমা দেয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য নতুন বেতন-ভাতা বাস্তবায়নে বর্তমান ব্যয়ের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। বিশাল এই আর্থিক চাপ সামাল দিতেই ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের কমিটি।
এ ছাড়া জুডিশিয়াল সার্ভিস ও সশস্ত্র বাহিনীর জন্য পৃথক বেতন কাঠামোর প্রতিবেদনও প্রস্তুত রয়েছে বলে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রীর চূড়ান্ত অনুমোদন মিললে আগামী অর্থবছরের বাজেটেই নবম পে-স্কেলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। প্রথম ধাপে মূল বেতনের বড় অংশ কার্যকর হওয়ার পর ২০২৮-২৯ অর্থবছরের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ সুবিধা ও নতুন ভাতাগুলো চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে শিক্ষক নেতারা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, তাদের দাবি উপেক্ষা করা হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। ফলে নতুন পে-স্কেল ঘিরে সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যেও এখন বাড়ছে প্রত্যাশা, উৎকণ্ঠা এবং আন্দোলনের চাপ।