এমভি হন্ডিয়াস নামের বিলাসবহুল জাহাজটি গত মাসে আর্জেন্টিনার উশুয়াইয়া থেকে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দেয়ার জন্য যাত্রা শুরু করে। জাহাজটিতে ১৭ জন আমেরিকানসহ প্রায় ১৫০ জন যাত্রী ছিল।
কিন্তু পথিমধ্যে জাহাজটিতে হান্টাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। এতে বেশ কয়েকজন যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। এর মধ্যে এক ডাচ দম্পতি এবং একজন জার্মান নাগরিকসহ তিনজন মারা যান।
জীবিতদের মধ্যে (যাদের সবাই জাহাজটির যাত্রী বা নাবিক) সাতজনের সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয় এবং অষ্টমজনকে ‘সম্ভাব্য’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। আক্রান্তরা যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, স্পেন, সুইজারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের নাগরিক।
সোমবার (১১ মে) যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক প্রিপেয়ার্ডনেস অ্যান্ড রেসপন্স প্রশাসনের প্রধান উপ-সহকারী সচিব জন নক্স বলেন, রোববার (১০ মে) দিবাগত রাতে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ থেকে মার্কিন নাগরিকদের সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
এই অভিযানে একাধিক ফেডারেল সংস্থা ও অঙ্গরাজ্য কর্মকর্তারা সমন্বিতভাবে কাজ করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘গত রাতে একাধিক ফেডারেল সংস্থার সমন্বয়ে এবং অঙ্গরাজ্য কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ (এইচএইএস) পররাষ্ট্র দফতরকে সহায়তা করেছে, যাতে এমভি হন্ডিয়াস থেকে ১৮ জন মার্কিন নাগরিককে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা যায়।’
তিনি আরও জানান, আগামী কয়েক দিনে যাত্রীদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। পরে কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেন, উদ্ধার হওয়া ১৮ জনের মধ্যে ১৬ জনকে নেব্রাস্কায় নেওয়া হয়েছে এবং বাকি দুজনকে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টায় পাঠানো হয়েছে। একজন যাত্রী ছিলেন ব্রিটিশ-মার্কিন দ্বৈত নাগরিক, যিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।
এদিকে মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি)-এর উচ্চঝুঁকিপূর্ণ রোগজীবাণু ও প্যাথলজি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ব্রেনডান জ্যাকসন বলেছেন, হান্টাভাইরাস নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়লেও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কাছে এটি নতুন কোনো ভাইরাস নয়।
তিনি বলেন, ‘আমি জোর দিয়ে বলতে চাই, এটি একেবারেই নতুন কোনো ভাইরাস নয়। কয়েক দশক ধরেই আমরা এই ভাইরাস সম্পর্কে জানি। যুক্তরাষ্ট্রেও এর আগেও হান্টাভাইরাস দেখা গেছে।’ জ্যাকসন আরও বলেন, বর্তমানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে উপসর্গ দেখা দেওয়ার পরই একজন থেকে আরেকজনে সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়।
মার্কিন জনস্বাস্থ্য সেবার প্রধান ও স্বাস্থ্যবিষয়ক সহকারী সচিব ব্রায়ান ক্রিস্টিন বলেন, সাধারণ জনগণের জন্য হান্টাভাইরাসের ঝুঁকি এখনো খুবই কম। তিনি বলেন, ‘আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, সাধারণ মানুষের জন্য হান্টাভাইরাসের ঝুঁকি খুবই কম।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘এই ভাইরাসের অ্যান্ডিজ ধরনটি সহজে ছড়ায় না। সাধারণত এমন কারও সঙ্গে দীর্ঘ সময় ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে থাকলে সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়, যার শরীরে ইতোমধ্যে উপসর্গ দেখা দিয়েছে।’ ব্রায়ান ক্রিস্টিন বলেন, ফেডারেল স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বিষয়টিকে ‘খুব গুরুত্বের সঙ্গে’ দেখছেন।
এএফপির প্রতিবেদন মতে, জাহাজটি থেকে ১২০ জনেরও বেশি যাত্রী ও নাবিককে বিমানযোগে সরিয়ে আনা হয়েছে এবং ফিরে আসা এই ব্যক্তিদের জন্য বিভিন্ন দেশ ভিন্ন ভিন্ন স্বাস্থ্যবিধি গ্রহণ করেছে।
অধিকাংশ দেশই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্দেশিকা অনুসরণ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে ৪২ দিনের কোয়ারেন্টাইন এবং উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি। কারণ এই রোগের সুপ্তিকাল ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত হতে পারে।







