বাগেরহাট সদর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের রণজিৎপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক সরদার মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে সম্প্রতি ওঠা অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর একটি অংশ। তারা বলছেন, দীর্ঘদিনের সুনাম ক্ষুণ্ন করতেই একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের অভিযোগ ছড়াচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাহবুবুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা রক্ষায় তার ভূমিকা রয়েছে বলে দাবি করেন অনেক অভিভাবক ও সাবেক শিক্ষার্থী।
বিদ্যালয়ের এক সাবেক শিক্ষার্থী বলেন, “মাহবুব স্যার আমাদের অনেক সময় দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় না। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত চাই।”
এক অভিভাবক বলেন, “এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই-বাছাই ছাড়াই অনেক কিছু ছড়িয়ে পড়ে। একজন শিক্ষকের সম্মান নিয়ে এমন অভিযোগের আগে সত্যতা নিশ্চিত হওয়া জরুরি।”
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, বিদ্যালয় ও এলাকায় শিক্ষক মাহবুবুর রহমানের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তারা অভিযোগের পেছনে ব্যক্তিগত বিরোধ বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ প্রশাসনের কাছে জমা পড়েনি বলে জানা গেছে। বাগেরহাট সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. আতিয়া খাতুন বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাদেকুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, আর অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে সেটিও বিবেচনায় নেওয়া হবে।”
এদিকে এলাকাবাসীর একাংশের মত, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই তাকে দোষী ভাবা ঠিক নয়। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।