বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার মাঠজুড়ে এখন পাকা ইরি ধানের সোনালি আভা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকেরা ধান কাটা ও মাড়াই নিয়ে চরম ব্যস্ত সময় পার করছেন।
বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সোনালি ধান কাটছেন কৃষকেরা। ধান পাকার পর কিছুদিন পরিস্থিতি ভালো থাকলেও এরই মধ্যে শুরু হয়েছে কালবৈশাখীর তাণ্ডব। ফলে পাকা ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। ধান কাটা, মাড়াই ও শুকিয়ে ঘরে তোলার কাজে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকেরা দলবদ্ধভাবে ধান কাটছেন। কোথাও হাতে, আবার কোথাও আধুনিক হারভেস্টার মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে। মাঠের পাশে কিংবা বাড়ির আঙিনায় ধান মাড়াই ও শুকানোর দৃশ্য চোখে পড়ার মতো। নতুন ইরি ধানের ঘ্রাণে ভরে উঠেছে গ্রামের পরিবেশ।
উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক বাবু সরদার বলেন, গতবারের তুলনায় এ বছর ফসল ভালো হয়েছে। তবে শুরুতে জ্বালানি তেলের সংকটে কৃষকেরা বিপাকে পড়লেও এখন পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে।
কৃষক হান্নান সরদার বলেন, এমনিতেই খরা, তার ওপর মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা উচ্চ মজুরি দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে কালবৈশাখীর তাণ্ডব নতুন দুশ্চিন্তা তৈরি করেছে। এমন পরিস্থিতিতে কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।
স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর আগৈলঝাড়া উপজেলায় ৯ হাজার ৬১৮ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে এবং ফলনও সন্তোষজনক। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সময়মতো পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়ায় কৃষকেরা উপকৃত হয়েছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইসা জানান, এখন পর্যন্ত প্রায় ৯৫০ হেক্টর জমির পাকা ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি বলেন, ইতিমধ্যে কৃষকদের মধ্যে ১২ হাজার ৫০০ লিটার ডিজেল বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষকদের ফুয়েল সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং কিছু কৃষকের মধ্যে ধান মাড়াইয়ের মেশিন বিতরণ করা হয়েছে।
ধান কাটার এই মৌসুমে কৃষকদের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কোথাও যাতে ধান ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়েও নজর রাখা হচ্ছে।
এদিকে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে দ্রুত ধান কাটা ও ঘরে তোলা শেষ করতে চান কৃষকেরা। অকাল বৃষ্টি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কায় তারা কোনো ঝুঁকি নিতে চান না।
সব মিলিয়ে আগৈলঝাড়ার কৃষকদের মধ্যে এখন ব্যস্ততা ও স্বস্তির এক মিশ্র চিত্র বিরাজ করছে। ভালো ফলনের আশায় তারা ঘরে তুলছেন সোনালি ফসল।