বারবার স্থান পরিবর্তন করেও শেষ রক্ষা হয়নি কুষ্টিয়ার পদ্মা নদীতে নৌ-পুলিশের ওপর গুলিবর্ষণ মামলার প্রধান আসামি, চরমপন্থি কালু বাহিনীর অন্যতম সদস্য আব্দুল আলীম ওরফে চিকন আলীমের (৪৪)।
শনিবার (২ মে) বিকেল ৬টার দিকে রাজধানী ঢাকার মিরপুর এলাকা থেকে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) যৌথ দল তাকে গ্রেপ্তার করে।
জানা গেছে, গত ২২ এপ্রিল রাতে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিপুর ঘাট এলাকায় গড়াই নদীর মুখ সংলগ্ন পদ্মা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে লক্ষ্মীকুন্ডা নৌ-পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়।
এ সময় ৮-৯ জন দুষ্কৃতকারী স্পিডবোটে এসে নৌ-পুলিশের টহল দলের ওপর শটগানের গুলি ছুড়ে। এতে ইনচার্জসহ ৪ জন পুলিশ সদস্য এবং নৌকার মাঝি আহত হন।
এ ঘটনায় লক্ষ্মীকুন্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক খন্দকার শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলায় বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ১৫(১) ধারা এবং দণ্ডবিধি অভিযোগ আনা হয়। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার পর থেকেই র্যাব আসামিদের গ্রেপ্তারে তৎপর হয়।
নৌ-পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তার তথ্যের ভিত্তিতে গোপন সংবাদের মাধ্যমে র্যাব-১২ সিপিসি-১ ও র্যাব-৩ এর একটি যৌথ দল শনিবার (২ মে) বিকেলে ঢাকার কাফরুল থানাধীন মিরপুর-১৪ পুলিশ কোয়ার্টারের সামনে ফুটওভার ব্রিজের নিচে অভিযান চালিয়ে মামলার ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত আব্দুল আলীমকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল আলীম কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার দয়ারামপুর ঘোষপাড়ার বেলায়েত ওরফে বিলাইয়ের ছেলে।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, নৌ-পুলিশের ওপর গুলিবর্ষণের পর থেকে তিনি গ্রেপ্তার এড়াতে বারবার অবস্থান পরিবর্তন করছিলেন। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর অবশেষে তিনি র্যাবের হাতে ধরা পড়েন।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তিনি জাসদ গণবাহিনীর ৯০র দশকের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সামরিক প্রধান, পলাতক চরমপন্থি নেতা কালুর পক্ষে কুমারখালী-খোকসা ও পদ্মা নদী এলাকায় প্রভাব বিস্তারে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।