বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও গণভোট ইস্যুকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, সরকারের সদিচ্ছার অভাব এবং গণভোটকে ঘিরে ‘নাটকীয়তা’ বিরোধী জোটকে কঠোর কর্মসূচির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
রোববার (৫ আগস্ট) দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে গণভোটের রায় উপেক্ষা, রাষ্ট্র সংস্কারের জরুরি অধ্যাদেশ বাতিল এবং সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অভিযোগ তোলা হয়।
আসিফ মাহমুদ বলেন, শুরু থেকেই এনসিপি সরকারকে সহযোগিতা করতে চেয়েছিল। বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় সকল অংশীজনকে নিয়ে কাজ করার আগ্রহও ছিল দলের। তবে সরকারের সদিচ্ছার অভাবে সেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। তিনি জানান, বিরোধী জোটের দ্রুত রাজপথে নামার পরিকল্পনা ছিল না, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তা অনিবার্য হয়ে উঠেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই পরিস্থিতি কারো জন্যই মঙ্গলজনক হবে না।
সরকারের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকার প্রায়ই দাবি করে যে আগামী ১৫-২০ বছর দেশে কোনো গণ-অভ্যুত্থান ঘটবে না। তবে ইতিহাস ভিন্ন বাস্তবতার সাক্ষ্য দেয়। তিনি ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান এবং পরবর্তী ১৯৭১ সালের ঘটনাপ্রবাহের উদাহরণ টেনে বলেন, অর্জন রক্ষা না করা গেলে বড় ধরনের পরিবর্তন আবারও ঘটতে পারে। একইভাবে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ও অর্জন রক্ষা না হলে ভবিষ্যতে আবারও রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে এনসিপির এই মুখপাত্র বলেন, প্রশাসক নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকার নিজেই সংবিধান মানছে না। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির বদলে নির্বাহী বিভাগের মাধ্যমে প্রশাসক নিয়োগের সুযোগ রেখে দেওয়া হয়েছে, যা বিরোধী দলের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, অতীতে দেশ ফ্যাসিবাদের অভিজ্ঞতা পেয়েছে এবং বর্তমানে সরকারের কর্মকাণ্ডে স্বৈরাচারের লক্ষণ দৃশ্যমান। গণভোটের রায় মেনে না নিলে সরকারকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
আসিফ মাহমুদ বলেন, আপনারা যেমন আমাদের অর্জন ধূলিসাৎ করতে সময় নিচ্ছেন না, আমরাও আপনাদের অবৈধ বলতে সময় নেব না।