জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, সংবিধানকে ‘সংস্কার’ বলা সঠিক নয়; এটি হয় সংশোধন, স্থগিত বা বাতিল করা যায়। রোববার (৫ এপ্রিল) সংসদে জুলাই জাতীয় সনদ ও সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে সংবিধান সংশোধনের জন্য সব দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের চেতনাকে সম্মান জানিয়ে ২০২৪ সালের জুলাই সনদ ও ঘোষণাপত্রের মূল বিষয়গুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এগুলো সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে যুক্ত করা হবে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনো ঘটনার তুলনা করা যায় না।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে নানা ধরনের ‘আইনি বিকৃতি’ আনা হয়েছে, যার কিছু অংশ ইতোমধ্যে হাইকোর্ট অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছে। অবশিষ্ট বিষয়গুলো সংসদই পর্যালোচনা করে বাতিল বা সংশোধন করবে। বিশেষ করে ৫, ৬ ও ৭ নম্বর তফসিলে থাকা ‘ভুল ইতিহাস’ সংশোধনের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা এবং ২৭ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে দেওয়া ঘোষণার বিষয়টি প্রকৃত ইতিহাস হিসেবে সংবিধানে প্রতিফলিত হওয়া উচিত।
সংবিধানের মূলনীতিতে ‘আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনর্বহালের বিষয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই নীতিটি আগে সংবিধানে ছিল, কিন্তু পরবর্তীতে তা বাদ দেওয়া হয়। যদিও জুলাই সনদে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার কথা ছিল, কিছু রাজনৈতিক দলের আপত্তির কারণে তা সম্ভব হয়নি। তবুও এটি পুনঃস্থাপনে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতা জনগণের হাতে এবং সেই ক্ষমতা সংসদের মাধ্যমেই প্রয়োগ করা হয়। এ প্রেক্ষিতে ১০০ সদস্যের একটি উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাবও তুলে ধরেন, যেখানে রাজনৈতিক দলগুলো আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পাবে।
বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার, বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র সদস্যরা একসঙ্গে বসে বিশেষ সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেন। তিনি স্পষ্ট করেন, সংবিধান সংশোধনের সিদ্ধান্ত দেশের সংসদেই হবে, বাইরের কোনো নির্দেশনা বা প্রভাবের ভিত্তিতে নয়।