ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওমানের সালালাহ বন্দর থেকে বেশ কিছুটা দূরে গভীর সমুদ্রে ওই জাহাজটিকে লক্ষ্যবস্তু করে ইরানি বাহিনী। তবে হামলার ধরন বা এতে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
ইরানের সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাঘারি এক বিবৃতিতে বলেছেন, ওমানের সালালাহ বন্দর থেকে বেশ দূরে, আগ্রাসী মার্কিন সেনাবাহিনীকে সহায়তাকারী একটি লজিস্টিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করেছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী।
এই হামলার সময় ভ্রাতৃপ্রতীম দেশ ওমানের সার্বভৌমত্বকে লঙ্ঘন করা হয়নি বলে জানিয়েছে ইরানের সেনাবাহিনী। তারা বলেছে, আমরা পূর্বেই ঘোষণা করেছি যে, ভ্রাতৃপ্রতিম ও বন্ধুরাষ্ট্র ওমানের জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি ইরান শ্রদ্ধাশীল।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জাতিসংঘে দেয়া এক ভাষণে বলেছেন, ইরান কখনো যুদ্ধ চায়নি। তবে নিজেদের রক্ষায় তারা সর্বোচ্চ সংকল্প নিয়ে যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর একটি ‘অবৈধ ও নিষ্ঠুর’ যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে।
আরাগচি বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই আগ্রাসন আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। তিনি দাবি করেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র যখন পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনায় ব্যস্ত ছিল, ঠিক তখনই এই হামলা চালিয়ে কূটনীতির সঙ্গে দ্বিতীয়বার বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে।
ভাষণে মিনাব শহরের শাজারাত হায়াবা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালানো হামলার প্রসঙ্গ টেনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি কোনো ভুল বা দুর্ঘটনা ছিল না। যেখানে ১৭৫ জনের বেশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষককে ঠাণ্ডা মাথায় হত্যা করা হয়েছে, তাকে পরিকল্পিত হামলা ছাড়া আর কিছু বলা যায় না।
তিনি আরও বলেন, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির দাবিদার দেশগুলো যখন একটি বেসামরিক স্কুলে হামলা চালায়, তখন তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই প্রমাণিত হয়।
আরাগচি বলেন, গত ২৭ দিনের যুদ্ধে ইরানের ৬০০টিরও বেশি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ১ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষক হতাহত হয়েছেন। এছাড়া হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্স, বিদ্যুৎ ও পানি শোধনাগারের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, আগ্রাসনকারীদের বক্তব্য এবং হামলার ধরন দেখে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, তাদের আসল লক্ষ্য ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানো।
বিশ্ববাসীর নীরবতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আব্বাস আরাগচি বলেন, ফিলিস্তিন ও লেবাননে চলমান নৃশংসতার মুখে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতাই আজ ইরানকে এই পরিস্থিতির মুখোমুখি করেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, অন্যায়ের মুখে এই উদাসীনতা কোনো শান্তি আনবে না, বরং বিশ্বজুড়ে আরও নিরাপত্তাহীনতা ডেকে আনবে।