রমজান মাস শেষ হওয়ার পর অনেক মুমিন মুসলমানের মনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন জাগে-অনিবার্য কারণে যেসব রোজা রাখা সম্ভব হয়নি, সেগুলো আদায়ের সঠিক নিয়ম কী? ইসলামের পাঁচটি রুকনের মধ্যে রোজা অন্যতম। সুস্থ ও প্রাপ্তবয়স্ক প্রত্যেক মুসলিমের ওপর রমজানের রোজা রাখা ফরজ। তবে অসুস্থতা, সফর (ভ্রমণ) বা মা-বোনদের বিশেষ দিনগুলোর কারণে অনেক সময় রোজা রাখা সম্ভব হয় না।
ইসলামি শরিয়তের বিধানে এই ছুটে যাওয়া রোজাগুলো পরবর্তীতে আদায় করা বাধ্যতামূলক, যাকে পরিভাষায় ‘কাযা রোজা’ বলা হয়। আপনার বাদ পড়া রোজাগুলো কীভাবে এবং কখন আদায় করবেন, সে বিষয়ে ইসলামের সুস্পষ্ট নির্দেশনা নিচে তুলে ধরা হলো :
১. কাযা রোজা কার ওপর ওয়াজিব?
রমজান মাসে যারা শরীরের কোনো ওজরের (কারণে) রোজা রাখতে পারেননি, তাদের ওপর এই রোজাগুলো কাযা করা ওয়াজিব বা আবশ্যক। যেমন—
অসুস্থ ব্যক্তি (যিনি সুস্থ হওয়ার আশা রাখেন)।
মুসাফির বা ভ্রমণকারী।
ঋতুবতী নারী।
গর্ভবতী বা দুগ্ধদানকারী মা (যদি রোজা রাখলে নিজের বা সন্তানের প্রাণের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে)।
২. কাযা রোজা আদায়ের সময়সীমা
রমজানের কাযা রোজা পরবর্তী রমজান আসার আগেই আদায় করে নেওয়া উত্তম। তবে যদি কেউ কোনো কারণে দেরি করে ফেলেন, তবুও তাকে সেই রোজা কাযা করতে হবে। শাওয়াল মাসের নফল রোজার চেয়ে ফরজের কাযা রোজা আগে আদায় করা অধিক সওয়াবের এবং নিরাপদ।
৩. ধারাবাহিকভাবে নাকি বিরতি দিয়ে?
কাযা রোজা রাখার ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা (অর্থাৎ টানা রাখা) জরুরি নয়। আপনি চাইলে টানা রাখতে পারেন, আবার সুবিধামতো বিরতি দিয়েও আদায় করতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, কারো ৫টি রোজা বাকি থাকলে তিনি সপ্তাহে একটি করে বা একসাথে পাঁচটিই রাখতে পারেন।
৪. কাযা রোজার নিয়ত
কাযা রোজার জন্য সুবহে সাদিকের আগেই মনে মনে নিয়ত করা জরুরি। নফল রোজার মতো দুপুরের আগে নিয়ত করলে কাযা রোজা সহিহ হয় না। নিয়ত মুখে বলা জরুরি নয়, মনে মনে ‘আমি রমজানের ছুটে যাওয়া ফরজের কাযা আদায় করছি’—এমন সংকল্প থাকলেই হবে।
৫. ফিদিয়া বা বদলা কখন প্রযোজ্য?
যদি কেউ এমন দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত হন যা থেকে সুস্থ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই, অথবা অতি বৃদ্ধ হওয়ার কারণে রোজা রাখার শারীরিক সামর্থ্য হারিয়ে ফেলেন, তবে তিনি রোজার বদলে ‘ফিদিয়া’ দেবেন। প্রতিটি রোজার বদলে একজন মিসকিনকে দুই বেলা পেট ভরে খাবার খাওয়ানো বা এর সমপরিমাণ অর্থ প্রদান করাকে ফিদিয়া বলে। তবে ভবিষ্যতে সুস্থ হয়ে গেলে তাকে আবার রোজাগুলো কাযা করতে হবে।
৬. কাযা রোজার গুরুত্ব ও সতর্কতা
ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা ছেড়ে দেওয়া কবিরা গুনাহ। তবে ওজরের কারণে বাদ পড়লে তা অবহেলা করে ফেলে রাখা উচিত নয়। মৃত্যু কখন আসবে তা কেউ জানে না, তাই জিম্মায় থাকা আল্লাহর এই ঋণ দ্রুত পরিশোধ করাই মুমিনের পরিচয়।