মরণব্যাধী ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে রাশিয়ার বিজ্ঞানীরা। নির্দিষ্ট রোগীর জন্য মাত্র তিন মাসে ব্যক্তিকেন্দ্রিক ক্যানসার ভ্যাকসিন তৈরি করার সক্ষমতা অর্জনের দাবি করেছে দেশটি, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রুশ বার্তা সংস্থা তাসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে একজন রোগীর জন্য ক্যানসার ভ্যাকসিন তৈরি করতে প্রায় তিন মাস সময় লাগছে। ভবিষ্যতে এই সময় আরও কমে আসবে বলে জানিয়েছেন ভ্লাদিমির গুশচিন, যিনি গামালেয়া ন্যাশনাল সেন্টার অব এপিডেমিওলজি অ্যান্ড মাইক্রোবায়োলজির উপপরিচালক।
গত ১ এপ্রিল প্রথমবারের মতো রাশিয়ায় একজন রোগীর শরীরে দেশীয়ভাবে তৈরি ব্যক্তিকেন্দ্রিক ক্যানসার ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়েছে।
রাশিয়ার ন্যাশনাল মেডিকেল রিসার্চ সেন্টার ফর রেডিওলজি ‘নিওঅনকোভ্যাক’ নামে এই ভ্যাকসিনটি ক্লিনিক্যাল ব্যবহারে প্রয়োগ করেছে। এটি প্রয়োগ করা হয়েছে ত্বকের মারাত্মক ক্যানসার ‘মেলানোমা’ আক্রান্ত এক রোগীর ওপর। প্রথম রোগী হিসেবে কুর্স্ক অঞ্চলের ৬০ বছর বয়সি একজন ব্যক্তি এই ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন।
রেডিওলজি সেন্টারের মহাপরিচালক আন্দ্রেই কাপরিন বলেন, ক্যানসার চিকিৎসা এখন ব্যক্তিকেন্দ্রিক পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে। প্রথমবারের মতো নির্দিষ্ট রোগীর জন্য তৈরি এমআরএনএ-ভিত্তিক ভ্যাকসিন ব্যবহার করা হয়েছে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।
তিনি আরও জানান, এই পদ্ধতি শুধু ক্যানসারের চিকিৎসাই নয়, বরং শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে প্রশিক্ষণ দিয়ে ক্ষতিকর কোষ শনাক্ত ও ধ্বংস করতে সহায়তা করে। ফলে ভবিষ্যতে ক্যানসার চিকিৎসায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যক্তিকেন্দ্রিক ভ্যাকসিন প্রযুক্তি আরও উন্নত হলে ক্যানসার চিকিৎসা পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।