চট্টগ্রামে শিশু পাচারকারী একটি চক্রের মূলহোতাসহ একাধিক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে মালয়েশিয়ায় পাচার হওয়া দুই কিশোরকে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাত ৮টায় চান্দগাঁও থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম।
তিনি জানান, চান্দগাঁও থানার মৌলভীপুকুরপাড় এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুল মান্নান ও তার প্রতিবেশী মো. জনির ছেলে সোহান (১৭) ও ইসমাইল ওরফে সাগর (১৬) গত ১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে নিখোঁজ হয়। তারা পড়াশোনার পাশাপাশি স্থানীয় একটি গ্যারেজে কাজ করত। নিখোঁজের পর পরিবারের পক্ষ থেকে চান্দগাঁও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে পরিবার জানতে পারে, তাদের সন্তানদের মালয়েশিয়ায় পাচার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ২৬ ফেব্রুয়ারি চান্দগাঁও থানায় মানব পাচার আইনে মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার তদন্তে নেমে চান্দগাঁও থানার ওসির নেতৃত্বে এসআই জায়েদ আব্দুল্লাহ বিন সরওয়ার চট্টগ্রামে আত্মগোপনে থাকা এজাহারভুক্ত আসামি মো. আব্দুল কাদের মামুন ও মো. ইয়াছিন আরাফাতকে গ্রেপ্তার করেন।
পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের আরও সদস্য মো. মিলনকে চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ এলাকা এবং মো. মোস্তফাকে কক্সবাজারের উখিয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার মোস্তফা মালয়েশিয়াভিত্তিক শিশু পাচারকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য হিসেবে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
তার দেওয়া তথ্য ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ কক্সবাজারের কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান চালায়। পুলিশের তৎপরতা ও কৌশলগত চাপে পড়ে চক্রটি মালয়েশিয়া থেকে দুই কিশোরকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে বাধ্য হয়।
এর ধারাবাহিকতায় ১৭ মার্চ ভোরে টেকনাফ থানার বড়ইতলী পাহাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে রোহিঙ্গা নাগরিক সাব মিয়া (৩৫), শাহ আলম (৩৫) ও মোহাম্মদ হোসেনকে (৪১) গ্রেপ্তার করা হয়।
এ সময় তাদের হেফাজত থেকে ভুক্তভোগী দুই কিশোর সোহান ও ইসমাইলকে উদ্ধার করে পুলিশ নিজেদের জিম্মায় নেয়।
উপ-পুলিশ কমিশনার জানান, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং শিশু পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।